মানবধর্ম ও সম্প্রীতির সাধক যাদুবিন্দু গোঁসাই: শতবর্ষ পেরিয়েও জীবন্ত তাঁর ভাবধারা।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:-” আমার এই কাদা মাখা সার হলো
ধর্ম মাছ ধরবো বলে নামলাম জলে,
ভক্তি – জাল ছিঁড়ে গেল,
কেবল হিংসে নিন্দে গুগলি ঘোঙা
পেয়েছি কতকগুলো ,
আমার এই কাদামাখা সার হলো “!!

উপরের লেখা কথাগুলো যেন এক আত্মসমীক্ষা। এত বড় ভাবের পদ যিনি রচনা করেছেন তাঁর নাম যাদুবিন্দু গোঁসাই। পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাঁচলখি গ্রামটিকে আর পাঁচটা বসতি গ্রাম না বলে বরং সাধন ক্ষেত্র বলা বেশি সমীচীন। এই গ্রামেই খড়িয়া নদীর পাড়ে ঝোপঝাড় জঙ্গলে বেষ্টিত স্থানে ছিল জাদু বিন্দু গোঁসায়ের আশ্রম। আজ থেকে শতবর্ষ পূর্বে ১৯১৬ সালে তাঁর জীবনাবসান হয়। তিনি ছিলেন সাহেব ধনী সম্প্রদায়ের শেষ পদকর্তা। তাঁর মূল নাম যাদবেন্দ্র । তিনি ছিলেন সহজিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। বিন্দু ছিলেন তাঁর সাধন সঙ্গিনী। যাদু আর বিন্দু এই দুইয়ে মিলে যাদুবিন্দু নাম নেওয়া তাঁর। নিজের সাধন সঙ্গিনীকে অমর করে রাখার প্রয়াসেই এই নাম যাদুবিন্দু। যাদুবিন্দু গোঁসাই আধ্যাত্মিক প্রেমের পূজারী ছিলেন। তিনি সাহেব ধনী সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথে নিজের আখরাতে বসবাস করতেন। আর গান বাঁধতেন। তিনি দেহতত্ত্ব, সমাজ শিক্ষা ,জনশিক্ষা নিয়ে একাধিক গান রচনা করেছেন। তিনি সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তিনি মানব ধর্মের কথা বলেছেন। এই মানবিক পদকর্তা একজন অলৌকিক ব্যক্তিত্ব ও ছিলেন। যার নানা অলৌকিক কাহিনী, লোকমুখে বহুল প্রচলিত। এমনকি মৃত্যুর পরেও তাঁর সমাধির পার্শ্ববর্তী গাছে তাঁর মুখ আকৃতির ফুটে ওঠা তাঁর অলৌকিকতারই নিদর্শন।
আজ যাদুবিন্দু গোসাইয়ের স্মরণে যাদুবিন্দু গোঁসাইয়ের সমাধি স্থানে সাধু বাউল ফকির সংস্কৃতি উৎসব ও মিলন মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বস্থলী ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আরতি খান, নসরতপুর পঞ্চায়েতের প্রধান কানন বর্মন উপপ্রধান নবীন হোসেন মন্ডল সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *