কেশপুরে ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান: বিএলও-দের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা।
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান- বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা। সেই কর্মযজ্ঞে এবার সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন কেশপুরের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। গ্রামে গ্রামে বিএলও (Booth Level Officer) ও বিএলএ (Booth Level Agent)-রা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে ভোটার তালিকার যাচাই-বাছাই, ফর্ম বিতরণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত ধনডাঙ্গরা গ্রামের ১৭৮ নম্বর বুথের বিএলও মমতা খাতুন জানালেন মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা“এখানকার মানুষজন অনেক সহযোগিতা করছেন। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, সবাই খুব ভালো ব্যবহার করছেন। কেউ সমস্যা তৈরি করছে না, বরং আগ্রহ দেখাচ্ছে। অনেকেই বলছেন— ‘আমারটা আগে খুঁজে দিন’! আমি ভোটারদের হাতে ফর্ম ও নির্দেশিকা তুলে দিচ্ছি। কাজটা করতে বেশ আনন্দ লাগছে।” একই সঙ্গে বিএলএ-দের পক্ষ থেকেও আশাবাদী বার্তা এসেছে।
একজন বুথ লেভেল এজেন্ট বলেন- “যাদের ফর্ম দেওয়া হয়েছে, সবার নামই তালিকায় আছে। আমাদের বুথে কোনো বিতর্ক বা বিভ্রান্তির আশঙ্কা নেই। আমরা নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছি, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো সমস্যায় না পড়েন।” তবে কিছু ব্যক্তিগত জটিলতার ঘটনাও সামনে এসেছে। ধনডাঙ্গরা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আশরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁর বউমা তশলিমা খাতুনের নাম ভোটার তালিকায় নেই।
তিনি বলেন— “বউমার বাবার বাড়ি দোগাছিয়া গ্রামে। ওখানে ভোটার কার্ড আছে, কিন্তু নামটা লিস্টে নেই। এখন এখান থেকেই কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে।” স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফর্ম পূরণ করলে এই ধরনের সমস্যা সহজেই মেটানো যাবে। মোটের উপর, কেশপুরের গ্রামাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে এক অন্য রকম চিত্র— ভোটার তালিকা সংশোধন শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়, গ্রামীণ মানুষদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার এক উৎসব।

