মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি — প্রকৃতির এক অপার্থিব উপহার।
প্রকৃতির রূপাবলি যদি একটি স্থানে সর্বাধিক ঘনঘন ও অভিজাতভাবে প্রকাশ পায়, তবে সেটি হল চেরাপুঞ্জি (Sohra)। মেঘালয়ের এই ছোট্ট শহর পৃথিবীর বৃষ্টিপ্রবণতম স্থানের মধ্যে অন্যতম। বৃষ্টির দ্যুতি, সবুজের সমাহার আর পাহাড়ি ঝরনার নাচ—সব মিলিয়ে চেরাপুঞ্জি যেন প্রকৃতির এক অপার্থিব উপহার।
🌄 চেরাপুঞ্জিতে পৌঁছানোর পথ
চেরাপুঞ্জি ভ্রমণের জন্য প্রধান প্রবেশপথ হলো শিলং। শিলং থেকে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দূরত্বে চেরাপুঞ্জি। পাহাড়ি রাস্তা ধরে গাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রা, যা স্বাভাবিক ভাবেই চোখে মুগ্ধতার জোয়ার বয়ে আনে। পথ জুড়ে দেখা যায় উঁচু পাহাড়, নীচু উপত্যকা, ঝরনা আর বৃষ্টির মৃদু ঝাপটা—প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপকল্প।
🌊 চেরাপুঞ্জির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
চেরাপুঞ্জি বৃষ্টির রাজ্য। এখানে বছরে গড়ে প্রায় ১১,০০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টি ছাড়া চেরাপুঞ্জি যেন অসম্পূর্ণ। সবুজ পাহাড়, মেঘের ভাঁজে ঢাকা উপত্যকা আর ঝরনার মৃদু সুর—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নিল দৃশ্য।
বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান:
- 💦 নোহকালিকাই জলপ্রপাত: ১০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতার জলপ্রপাত, যা পাহাড়ি ঝরনার রাজকীয় রূপ প্রদর্শন করে।
- 🌳 মাওলিনং (Living Root Bridges): প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো, লিভিং রুট ব্রিজ। বৃষ্টির পর এই সেতুগুলি আরও ঝকঝকে ও সুন্দর দেখায়।
- 🌿 ডাউকি নদী: স্বচ্ছ জলের নদী, চারপাশের সবুজ বনভূমি এক অদ্ভুত শান্তির অনুভূতি দেয়।
- 🏞️ রেনফল ভ্যালি ও গ্রিন উপত্যকা: পাহাড়ি পথে ভ্রমণকারীদের চোখকে আনন্দ দেয়।
🌦️ আবহাওয়া ও ভ্রমণের সময়
চেরাপুঞ্জি সবসময় বৃষ্টির আড়ালে ঢাকা থাকে। সর্বোত্তম ভ্রমণের সময় হল অক্টোবর থেকে এপ্রিল। বর্ষাকালেও দেখা যায় অসাধারণ ঝরনা ও সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য, তবে রাস্তা কিছুটা ভিজে খারাপ হতে পারে।
🍲 স্থানীয় খাদ্য ও সংস্কৃতি
চেরাপুঞ্জির মানুষ মূলত খাসি সম্প্রদায়। এখানকার সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, নারীর মর্যাদা উঁচু।
- খাসি স্থানীয় খাবার: জাদো (চাল ও মাংসের সংমিশ্রণ), দোহনেইয়ং (কালো তিল ও শূকরের মাংস), পাহাড়ি সবজি ও মিষ্টি।
- স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায় হাতের তৈরি বস্ত্র, কাঠের শিল্পকর্ম ও আভিজাত্যপূর্ণ হস্তশিল্প।
🌿 কাছাকাছি ঘুরে দেখার স্থান
- মাওলিনং গ্রাম: এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম।
- কাওর নদী: চেরাপুঞ্জির আশেপাশে নৌকা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
- এলিফ্যান্ট ফলস (Elephant Falls): পাহাড়ি ঝরনা যা প্রকৃতির ক্যানভাসের মতো।
🌸 উপসংহার
চেরাপুঞ্জি হল প্রকৃতির সঙ্গে এক অনন্য আলাপের জায়গা। বৃষ্টির রোদ, সবুজের ঝলক, পাহাড়ি ঝরনা ও মানুষদের আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে এটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের স্বপ্নযাত্রার ঠিকানা। একবার এই বৃষ্টিপ্রবণ শহরে ভ্রমণ করলে মনে হয় সময় থমকে গেছে, আর মনের ক্যানভাসে চিরদিনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায় চেরাপুঞ্জির ঝরনার রূপ।

