শান্তিনিকেতন – প্রকৃতির কোলে আধ্যাত্মিক দুর্গাপুজোর স্বাদ।

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ছোট্ট শহর শান্তিনিকেতন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান বিশ্বভারতীর জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। সাধারণত শান্তিনিকেতন মানেই পড়াশোনার শহর, রবীন্দ্রসঙ্গীত, শিল্প-সংস্কৃতি ও নির্জনতা। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় এই শহর যেন অন্যরকম হয়ে ওঠে। এখানে নেই মহানগরের প্যান্ডেলের ভিড়, নেই হইচই – আছে এক শান্ত, মাটির গন্ধমাখা পুজোর স্বাদ।


🏡 শান্তিনিকেতনের পুজো – এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা

শান্তিনিকেতনে দুর্গাপুজো মূলত হয় প্রাচীন রীতি মেনে, সরলতা ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে। এখানে বড় বড় ক্লাবের থিম প্যান্ডেল নেই, আছে আশ্রমের আঙিনায় সাজানো ছোট্ট সুন্দর পুজো মণ্ডপ।

  • আশ্রম পুজো: বিশ্বভারতীর প্রাঙ্গণে ছোট্ট করে দুর্গাপুজো হয়। মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপের গন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের শব্দে চারিদিক ভরে যায়।
  • লোকাল পুজো: শান্তিনিকেতনের আশেপাশের গ্রামে ঐতিহ্যবাহী পুজো হয়। স্থানীয়রা অংশ নেন, অতিথিদের সঙ্গে গল্প করেন – এতে একটা আন্তরিক আবহ তৈরি হয়।

🖌️ হস্তশিল্পের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

শান্তিনিকেতনের অন্যতম বড় আকর্ষণ দুর্গাপুজোর সময় হল হস্তশিল্পের মেলা।

  • শিল্পীদের হাতের কাজ: কাঁসা-পিতলের কাজ, ডোকরা, কাঁথা সেলাই, বালুচরি শাড়ি, মাটির পুতুল – সবকিছুই পাওয়া যায় এখানে।
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: স্থানীয় শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত, বাউল গান পরিবেশন করেন। ছোট ছোট নাটক, কবিতার আসরও বসে।

🌳 প্রকৃতির শান্ত আবহ

শান্তিনিকেতন মানেই প্রকৃতির কোলে এক শান্ত অভিজ্ঞতা।

  • আম্রকুঞ্জে হাঁটাহাঁটি: ছায়াঘেরা পথ, রবীন্দ্রনাথের পায়ের ছাপ, পাখির ডাক – মনকে অন্য জগতে নিয়ে যায়।
  • কোপাই নদীর ধারে বসা: শীতল বাতাস আর নদীর শান্ত জলরাশি – এখানে বসে থাকলেই সময় থমকে যায়।

🍲 খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ

শান্তিনিকেতনে পুজোর সময় স্থানীয় হোটেল ও হোমস্টেগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন থাকে।

  • ভাত-ডাল-শুক্তো, মাটন কষা, পাটিসাপটা – সব কিছুই পাওয়া যায়।
  • আশ্রমের ভেতরে অনেক সময় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয় – তা একবার খাওয়ার মতোই অভিজ্ঞতা।

🛍️ কেনাকাটা

পুজোর সময় হস্তশিল্পের বাজারে ভিড় জমে যায়।

  • চিকনকারি ও বাটিক: শান্তিনিকেতনের বাটিক শাড়ি ও হস্তশিল্প খুব বিখ্যাত।
  • কাঠ ও বাঁশের জিনিস: বাড়ির সাজসজ্জার জন্য দুর্দান্ত।

🚶 কিভাবে পৌঁছবেন

  • ট্রেনে বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে অটো বা টোটো করে শহরে যেতে হয়।
  • কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায় – প্রায় ৪ ঘন্টার রাস্তা।

❤️ উপসংহার

শান্তিনিকেতনের দুর্গাপুজো হল মনকে শান্ত করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত জায়গায় দাঁড়িয়ে দুর্গাপুজো দেখা মানেই আধ্যাত্মিক তৃপ্তি। যারা শান্ত, নিরিবিলি, সাংস্কৃতিক আবহে পুজোর স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য শান্তিনিকেতন হতে পারে সেরা পছন্দ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *