বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে হেনস্থার শিকার উত্তর দিনাজপুর জেলার এক পরিযায়ী শ্রমিক।

উত্তর দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে হেনস্থার শিকার উত্তর দিনাজপুর জেলার এক পরিযায়ী শ্রমিক।নাম সৈকত রায় বাড়ি চিনাজ গ্রাম, ডালখোলা। রানীগঞ্জ পঞ্চায়েত। করণদিঘী ব্লক । বাংলা ভাষায় কথা বলায় ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সৈকত রায়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নিজের পোস্ট করা একটি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি নিখোঁজ। কাজের সন্ধানে প্রথমে গোয়ায় তার পরে পুনেতে চলে আসে, পুনেতে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার পরে তারপরে সেখান থেকে চেন্নাইতে আসে, চেন্নাইতে ডাউন স্টেশন বলে একটা স্টেশন আছে সেই স্টেশনে এসে একটা ভিডিও পোস্ট করে তিনি ,তার সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে বলে এখানকার স্টেশন মাস্টার আরপিএফ এর লোক ট্রাফিক পুলিশ এরা এই ব্যক্তিকে গুপ্তচর বলে সন্দেহ করে। তিনি বলেন আমাকে দেখতে কি জাসুস বলে মনে হয় আমি একজন পরিযায়ী শ্রমিক আমি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে খাই। এরা আমার পেছনে লেগেছে বলেছে আজকে আমাকে মেরেই ফেলবে।। হতে পারে এটা আমার লাস্ট ভিডিও এর পরে আমি বাচি না মরি এই ভিডিওটা আপনারা শেয়ার করবেন। এর পর তার বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার শেষ কথা হয় মোবাইলে । বাড়িতে কথা বলার পরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির লোক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বাড়িতে তার দিদি তার স্ত্রী বাচ্চা ও বাবা-মা রয়েছে এরপরে তারা পুনরায় তার সাথে আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে।। কিন্তু কোন ভাবেই তার সাথে যোগাযোগ হয়ে ওঠেনা। পরবর্তীতে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি সেই ফোন রিসিভ করে। সেই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় যে এটা যার ফোন অর্থাৎ সৈকত রায় তিনি কোথায়? তিনি ফোন তুলছেন না কেন? সেই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বলে, যে এই ফোনটা অনেকক্ষণ ধরে বেঁচে যাচ্ছে এই ফোনটা রেলে সিটেই পড়েছিল দীর্ঘক্ষণ বেজে যাওয়ার পরে আমি এ ফোনটা রিসিভ করি এবং আপনাদের সাথে এই মুহূর্তে কথা বলছি। এই ফোনটা আমি ট্রেনের সিটেই পেয়েছি বারবার করে ফোন আসছিল সেই কারণেই আমি কলটা রিসিভ করেছি। এবং সেই ব্যক্তি এও বলে আমি নদীয়ার বাসিন্দা। লোকটার কোন খোঁজখবর নেই তবে এই ফোনটা আমি স্টেশনে নেমে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ফোনটা জমা দিয়ে দেব।। এরপরে আর সেই ফোনে আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং খুব সম্ভবত মোবাইলটা সুইচড অফ হয়ে গেছে। সৈকত রায়ের বাবা ৭৫ বছর বয়স, নাম গোপালকৃষ্ণ রায়। এই বৃদ্ধ গোপালকৃষ্ণ রায় ডালখোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ১৬ তারিখ নাগাদ ডালখোলা থানা থেকে সেই লিখিত অভিযোগের রিসিভ কপি বৃদ্ধ বাবা গোপাল কৃষ্ণ রায় কে দেওয়া হয়।। এই ঘটনার খবর পেয়ে গোপালকৃষ্ণ রায়ের বাড়িতে যায় উত্তর দিনাজপুর জেলা CITU নেতৃত্ব। এবং এই বিষয়টি নিয়ে তারা এই পরিবারের সাথে কথা বলে ও উত্তর দিনাজপুর জেলা শাসকের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন, এবং পুরো বিষয়টি জানানো হয়।। যদিও জেলাশাসক সেই দিন অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি উত্তর দিনাজপুর রায়গঞ্জের মহকুমা শাসকের নিকট জানানো হয়। এদিনের এই ডেপুটেশনে , উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ এর সাধারণ সম্পাদক স্বপন গুহ নিয়োগী, উপস্থিত ছিলেন ডালখোলা জেলা সিআইটি ইউ এর পরিযায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সুরেশ গুপ্ত , জেলা মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার থেকে উপস্থিত ছিলেন একরামুল হক,উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য সুজিত সরকার,উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রঞ্জন দাস ও সি আই টি ইউ এর রাজ্য কাউন্সিলের সদস্য রঘুপতি মুখার্জি ও জেলা মাই গ্রেন্ট ওয়ার্কার এর কার্যকরী সভাপতি কার্তিক দাস সহ অন্যান্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *