বালুরঘাট গণধর্ষণ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত তিন অভিযুক্ত, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ২০১৪ সালে বালুরঘাটে এক আদিবাসী বৃদ্ধা মহিলাকে নির্মমভাবে গণধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচার মিলল। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আদালত মঙ্গলবার তিন অভিযুক্ত—শঙ্কর দাস, তনয় সাহা ও ভজন কর্মকারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(ডি) ধারাসহ একাধিক ধারায় দোষীদের এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল বালুরঘাট শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন ওই আদিবাসী মহিলা। তাঁকে ঘরে ঢুকে গণধর্ষণ করে অভিযুক্তরা। নির্যাতিতা মহিলা বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ৪৫৭, ৩৭৬(ডি), ৩৭৯, ৩৩৪ ধারা ও তফশিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু হয়।
তদন্ত চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উঠে আসে—নির্যাতিতার শরীরে পাওয়া দংশনের চিহ্ন অভিযুক্ত তনয় সাহার দাঁতের গঠনের সঙ্গে মিলে যায়। পরবর্তীতে আদালতে তিন অভিযুক্তকেই চিহ্নিত করেন নির্যাতিতা। যদিও শুরুতে কয়েকজন সাক্ষী বয়ান দিতে অস্বীকার করলেও, সরকারি পক্ষের জেরা চলাকালীন তাঁরা শেষ পর্যন্ত সত্য ঘটনাই আদালতে তুলে ধরেন।
সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী জানান, “৪৫৭ ধারায় প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সাজা হয়েছে। ৩৭৬(ডি) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন বিচারক।”
তিনি এই রায়কে “উদাহরণযোগ্য” বলে বর্ণনা করেন এবং তদন্তকারী অফিসারদের প্রশংসা করে বলেন, “এই রায় সমাজে স্পষ্ট বার্তা দেবে যে এমন জঘন্য অপরাধের কঠোর শাস্তি অনিবার্য।”

