“৩৫ বছর বাম, ১৫ বছর তৃণমূল— এবার ৫ বছর বিজেপিকে দিন”: কুশমন্ডিতে মোদী।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূল পেয়েছে ১৫ বছর, পাঁচ বছর মোদীকে দিয়ে দেখুন’! শনিবার দক্ষিন দিনাজপুরের কুশমন্ডি এলাকার খাগড়াকুড়িতে উত্তর ও দক্ষিন দুই দিনাজপুর জেলার দলের সমর্থনে বিজয় সংকল্প সভা করতে এসে বাংলার জনগনের কাছে এই আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কুশমুন্ডিতে সঠিক সময় পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে বরণ করে নেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। প্রধানমন্ততীকে স্বাগত জানাতে গিয়ে সুকান্ত বলেন সংকল্পপত্রে যা বলা হয়েছে, সেখান থেকে পরিষ্কার, এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের জন্য এত কিছু ভাবেননি।

খাগড়াকুড়ির ময়দানের মঞ্চে প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে মোদী ‘জয় মা কালী’, ‘জয় বাবা ভোলানাথ’ বলে ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ দিনাজপুরের পুণ্যভূমিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানাচ্ছি। সবার আগে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ, সভার যে প্ল্যানিং করা হয়েছে, যে প্যান্ডেল করা হয়েছে, তা খুব ছোট হয়ে গিয়েছে। যত জন ভিতরে আছেন, তার তিন গুণ বাইরে আছেন। তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। তবে সকলকে আশ্বস্ত করছি, এই পরিশ্রমকে বেকার হতে দেব না। এই ভালবাসা ১০০ গুণ করে ফেরত দেব। উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত দেব।’

মোদী স্লোগান তোলেন, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। তিনি বলেন, ‘‘এই তৃণমূলের মা-মাটি-মানুষের জন্য কত মিথ্যা বলে ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসেছে। এখন দিনরাত আমাদের গালি দেন। মিথ্যা অভিযোগ করেন। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে কী করেছেন, মানুষকে বলুন না? গত ১৫ বছরে যখন কিচ্ছু করেনি, আরও ৫ বছরে কী করবে? কী উন্নয়ন হয়েছে? এরা ১৫ বছরের কথা বলে না। কারণ, দুর্নীতি, মিথ্যার সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে। একটাই মডেল গড়ে তুলেছে ১৫ বছরে। এখানে সিন্ডিকেটই সরকার, সরকারই সিন্ডিকেট। বাংলা ছাড়া কোথাও তৃণমূল নেই। অসম, ত্রিপুরা, গোয়ায় কেউ এদের ভোট দেয় না। কারণ, সেখানে ওদের গুন্ডামি চলে না। এরা একটি জায়গায় পিএইচডি করেছে। গুন্ডামি। ভয় দেখিয়ে ভোট লুট করার।’’

মোদীর কথায়, ‘‘গতকালই ঘোষণাপত্র দিয়েছে বিজেপি। এখানে মোদী কি গ্যারান্টি রয়েছে। বিজেপি সরকার ভয়কে খতম করে ভরসা যোগাবে। আইনের শাসনের উপর মানুষের আস্থা ফিরবে। আমরা তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি, দাঙ্গা, ধর্ষণ, খুনের মতো অত্যাচার সামনে আনার জন্য প্রমাণ দেব। পীড়িতদের ন্যায়বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা হবে।’’

তৃণমূল ফুটবলকেও সিন্ডিকেটের কাছে দিয়ে দিয়েছে। মহাজঙ্গলরাজের দিশা দিয়েছে। আরও এক ঐতিহাসিক ছবি দেখেছি। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল জেতার জন্য লড়ে। কিন্তু যখন আরজি করে এক চিকিৎসককে খুন করা হয়েছিল, তখন সকলে রাস্তায় নেমেছিলেন। দুই ফুটবল ক্লাবও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ ভাবে আমাদের সবাইকে তৃণমূল সরকারকে সবক শেখাতে হবে। দিনাজপুরেও গত কয়েক বছরে মহিলাদের সঙ্গে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সে সব ভুললে চলবে না। মেয়েদের জন্য মোদীর গ্যারান্টি— সমস্ত ধর্ষণের মামলার ফাইল খুলব। খুঁজে খুঁজে হিসাব নেব। কী ভাবে হবে, সেটা ঘোষণাপত্রে বলে দিয়েছে বিজেপি।’’

‘মহিলা কল্যাণ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের সুরক্ষা, তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সচেষ্ট হব। এখানে মহিলারা যে ভাতা পান, তার ডবল দেব আমরা। সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন মহিলারা

দিনাজপুরের বিশ্ববিদ্যালয় তৃণমূলের দুর্নীতির বড় জায়গা। খবরকাগজে পড়েছি, এদের নিজের ক্যাম্পাস নেই। কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। স্থায়ী শিক্ষক নেই। অস্থায়ী শিক্ষকেরা দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা পান। এই ভাবে যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তৃণমূল। পড়ার সুযোগ নেই রাজ্যে। কাজের জন্যও বাইরে যেতে হয়। পড়াশোনা করে চাকরি করতে গেলে মন্ত্রীই চাকরি লুট করেন। দেখেছেন, মন্ত্রীর বাড়িতে টাকার পাহাড় উদ্ধার। এনাফ ইজ় এনাফ। আর নয়। এই অবস্থা বদলানোর জন্য বিজেপিকে সরকারে আনুন।’’

‘ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানে, সেখানেই উন্নয়ন। বাড়ি পর্যন্ত পানীয় জল যায়, সে জন্য দিল্লি থেকে টাকা এসেছে। কিন্তু তার মাঝেও টিএমসি ঢুকে পড়েছে। আপনারা বিজেপিকে আনুন। মোদী কি গ্যারান্টি। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছোবে।’’

অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করা হবে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে আবার বৈভবশালী রাজ্য করবে। তাই আমাদের প্রার্থীদের এখানে হাজির করেছি। বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূলকে ১৫, ৫ বছর মোদীকে দিয়ে দেখুন।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *