ওদলাবাড়িতে মর্মান্তিক বাস্তব—চিকিৎসার অভাবে নিভে যেতে বসেছে এক জীবন।

ওদলাবাড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- একদিকে বুকফাটা কান্না, অন্যদিকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই—ওদলাবাড়ির হিম্মত কলোনিতে যেন প্রতিদিনই ঘটছে এক হৃদয়বিদারক বাস্তবের পুনরাবৃত্তি। অসহায় মা নীলেশ্বরী রায়ের চোখের সামনে নিঃশব্দ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তাঁর একমাত্র ছেলে প্রকাশ রায়।
জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে লাভা এলাকায় কাজ করতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে মারাত্মকভাবে আহত হন প্রকাশ। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই কার্যত শয্যাশায়ী তিনি। কথা বলতে পারছেন না, নিজের যন্ত্রণাও প্রকাশ করতে পারছেন না—শুধু নিথর দেহে সহ্য করে চলেছেন অসহনীয় কষ্ট।
চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত বেঙ্গালুরু নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা—যা জোগাড় করা এক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
এর মধ্যেই কিছুদিন আগে স্বামীকে হারিয়েছেন নীলেশ্বরী দেবী। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছেলের এই মর্মান্তিক অবস্থা তাঁকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ভাঙাচোরা টিনের ঘরে বসে তিনি শুধু একটাই প্রশ্ন করছেন, “সব কিছু কেড়ে নিল, এবার কি আমার ছেলেকেও নিয়ে নেবে?”
স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ খাদ্যসামগ্রী, কেউ সামান্য অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু বড় চিকিৎসার জন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা এখনও অনেকটাই দূর অধরা।
এই পরিস্থিতিতে মানবিকতার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের কথায়, “যদি সবাই একটু করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব একটি তরতাজা জীবন, ফিরে আসতে পারে এক মায়ের হাসি।”
একটি পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই এখন নির্ভর করছে সমাজের সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *