দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, নারী ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন।

দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও জাতীয় বিজ্ঞান দিবসকে সামনে রেখে জ্ঞানচর্চা ও নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এক দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করল দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ‘সেলিব্রেটিং কিউরিওসিটি: উইমেন, উইজডম অ্যান্ড ওয়ান্ডার’ শীর্ষক এই সম্মেলনে দিনভর ছিল বক্তৃতা, আলোচনা, পোস্টার উপস্থাপনা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে এক জমজমাট কর্মসূচি।

সকাল দশটায় উদ্বোধনী পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা। এরপর অল্প সময়ের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হয় মূল বক্তব্য পর্ব। এই পর্বে বক্তব্য রাখেন ইগনু-র অধ্যাপিকা তথা হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপিকা নন্দিনী সাহু। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আশিস ভট্টাচার্য।

এরপর প্লেনারি সেশনগুলিতে বিভিন্ন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অংশ নেন। প্রথম প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপিকা চন্দ্রদীপা ঘোষ, ইতালির সান্নিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দানিয়েলা পাপালার্দো, দার্জিলিং হিলস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপিকা তেজিমালা গুরুং নাগ এবং আইএসি‌এস, কলকাতার ভাটনগর পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অধ্যাপিকা জ্যোতির্ময়ী দাশ। এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অর্ণব সেন।

দ্বিতীয় প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা জিনিয়া মিত্র এবং ইতিহাস ও নারী অধ্যয়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা ডালিয়া ভট্টাচার্য। এই অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপিকা চন্দ্রদীপা ঘোষ। বিকেলের আমন্ত্রিত বক্তৃতা পর্বে অংশ নেন বালুরঘাট কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা পউলমি চক্রবর্তী, বালুরঘাট মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা স্রেয়সী দত্ত, বালুরঘাট ল’ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা সুপ্রিতি রায়, গঙ্গারামপুর কলেজের দর্শন বিভাগের প্রধান জয়িতা সাহা সরকার এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শ্রেয়সী বসু। এই পর্বের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপিকা তেজিমালা গুরুং নাগ। ইতালি থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড্যানিয়েলা পাপালার্ডো।

দুপুরে লাঞ্চ ও পোস্টার উপস্থাপনা পর্বে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। গবেষণাধর্মী নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের উপস্থাপনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। দিনের শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। কোলাজ উপস্থাপনার মাধ্যমে নারীশক্তি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রকাশ ঘটে। পরে পোস্টার প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এই ধরনের সম্মেলন কেবল একাডেমিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও লিঙ্গসমতার ধারণা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *