২৭ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান, চারাগাছ উপহার দিয়ে পরিবেশ বার্তা।


‎বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ‎স্বর্গীয়া বীথিকা দত্তের নবম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে আয়োজিত হলো এক মানবিক ও পরিবেশমুখী কর্মসূচি। রক্তদান শিবির ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগ নেন তুষার কান্তি দত্ত ও জগন্নাথ দত্ত। সহযোগিতায় ছিল দক্ষিণ দিনাজপুর ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্ট ক্লাব। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্ট ক্লাব সেমিনার হল-এ।

‎অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলংকৃত করেন সকলের প্রিয় ‘বঙ্গরত্ন চকলেট দাদু’ তাপস চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাট ব্লাড সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. দেবব্রত দে, দক্ষিণ দিনাজপুর ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সুনীল সরকার ও নীলোৎপল সরকার এবং সম্পাদক ড. দুলাল বর্মন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সমাজসেবী বঙ্গরত্ন বিশ্বনাথ লাহা, প্রাক্তন শিক্ষক ও সমাজসেবী সন্তোষ সাহা, সমাজসেবী জ্যোতিবিকাশ দত্ত, শিক্ষক কৌশিক ঘোষ ও সৌমিত দাস, আইনজীবী পীযুষ কান্তি মজুমদার, শিক্ষক ও ইতিহাসবিদ ড. সমিত ঘোষ, কবি ও সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী, উজ্জীবন সোসাইটির সম্পাদক সূরজ দাশ সহ আরও অনেকে। জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি শংকর দাস, সম্পাদক অনুপ স্যান্যাল ও সদস্য ইন্দ্রনীল রায়ও উপস্থিত ছিলেন।

‎অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত বাচিক শিল্পী সঞ্জয় কর্মকারের অকাল প্রয়াণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর স্মরণে প্রকাশিত পুস্তিকা ‘সংকলিত সঞ্জয়’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

‎সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন বিভাস দাস। অতিথিদের চন্দনের টিপ, পুষ্পস্তবক ও ব্যাজ পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। রক্তদাতাদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় তুষার কান্তি দত্তের নিজ হাতে প্রস্তুত বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ, শংসাপত্র ও ‘রক্ত গোলাপ’—যা মানবিকতার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার এক সুন্দর বার্তা বহন করে।

‎এদিনের রক্তদান শিবিরে মোট ২৭ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, যার মধ্যে দুইজন মহিলা রক্তদাতা ছিলেন। জগন্নাথ দত্তের সমাপ্তি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই স্মারক কর্মসূচির সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। এই রক্তদান শিবিরে উদ্যোক্তা হলেন স্বর্গীয়া বীথিকা দত্তের সুযোগ্য পুত্র তুষার কান্তি দত্ত ও জগন্নাথ দত্ত।

‎সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন মানবিকতা, স্মৃতিচারণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *