শিল্পে আদর্শের ছোঁয়া — মহিষাদলের শুভদীপ-এর আঁকা গান্ধী ছবিতে মুগ্ধ উপাচার্য।

হলদিয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :- শিল্পের মাধ্যমে ইতিহাস ও আদর্শকে ছুঁয়ে দেখার এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী রইল হলদিয়া। মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শুভদীপ আচার্য নিজের হাতে অঙ্কিত মহাত্মা গান্ধীজীর একটি প্রতিকৃতি তুলে দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌরাংশু মুখোপাধ্যায়ের হাতে। এক কিশোরের তুলিতে আঁকা এই ছবি শুধু শিল্পকর্ম নয়, বরং গান্ধীজীর আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক নীরব বার্তা বহন করল।
এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অথচ হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে শুভদীপ তার আঁকা গান্ধীজীর ছবিটি উপাচার্যের হাতে তুলে দেয়। সাদা-কালো ছায়ার মিশেলে আঁকা প্রতিকৃতিতে ফুটে উঠেছে অহিংসার প্রবক্তা মহাত্মার শান্ত মুখাবয়ব, দৃঢ় দৃষ্টি ও আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব। শিশুশিল্পীর তুলির টানে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে জাতির জনকের আদর্শিক দৃঢ়তা ও মানবিক আবেদন।
ছবিটি গ্রহণ করে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌরাংশু মুখোপাধ্যায় শুভদীপের প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এত অল্প বয়সে এমন গভীর ভাবনা ও শিল্পচর্চা সত্যিই প্রশংসনীয়। গান্ধীজীর ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে শুভদীপ শুধু শিল্পীসত্তার পরিচয় দেয়নি, বরং আমাদের ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতিও তার সচেতনতা প্রকাশ করেছে। এই ধরনের প্রতিভাই ভবিষ্যতে সমাজকে আলোকিত করে।”

শুভদীপ আচার্যের বাড়ি মহিষাদল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী ছাত্রের বাবা পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে একটি ছোট চায়ের দোকান চালান। সীমিত আর্থিক সচ্ছলতার মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা ও সৃজনশীল চর্চায় কোনও খামতি রাখেননি তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি আঁকায় শুভদীপের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার ও শিক্ষকরা।
চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম হাই স্কুলের শিক্ষকরাও ছাত্রটির কৃতিত্বে গর্বিত। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, “শুভদীপ শুধু পড়াশোনায় নয়, সহপাঠীদের মধ্যেও তার আচরণ ও মনোভাব খুবই ইতিবাচক। সে নিয়মিত আঁকা অনুশীলন করে এবং প্রতিটি ছবির পিছনে কোনও না কোনও ভাবনা থাকে।” বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামিদিনে শুভদীপের শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কিছুটা লাজুক শুভদীপ বলে, “আমি গান্ধীজীকে খুব ভালোবাসি। তাঁর জীবন ও আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাই নিজের হাতে তাঁর ছবি এঁকে উপাচার্যের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি খুব খুশি।” ছোট্ট এই বক্তব্যেই ফুটে ওঠে এক কিশোরের বড় স্বপ্ন ও সরল আত্মবিশ্বাস।
এই ঘটনা শুধু একটি ছাত্রের কৃতিত্বের খবর নয়, বরং সমাজের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—প্রতিভা সুযোগ পেলে যে কোনও পরিবেশেই বিকশিত হতে পারে। এক সাধারণ পরিবারের সন্তান শুভদীপ আচার্য আজ প্রমাণ করল, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতা থাকলে বয়স বা সামাজিক অবস্থান কোনও বাধা নয়।
শিশুদের শিল্পচর্চা ও মূল্যবোধ গঠনে এমন ঘটনাগুলি নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উৎস। শুভদীপের আঁকা মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতি শুধু একটি ছবি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া আদর্শের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *