মাধ্যমিকের মাঝেই মাইক-তাণ্ডব, জাতীয় পতাকার উপর দলীয় পতাকা—শালবনীতে শাসকদলের সভা ঘিরে তুমুল বিতর্ক।

ষনিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: আইন ও জাতীয় পতাকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাধ্যমিকের মাঝেই শালবনীতে তৃণমূলের ‘গর্জন’, মঞ্চে বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্ব

আইন আছে আইনেই, আর শাসকদলের দাপট রাজপথের সভায়। একদিকে যখন জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা ‘মাধ্যমিক’ দিতে ব্যস্ত হাজার হাজার পড়ুয়া, ঠিক তখনই বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে শালবনীতে দাপটের সঙ্গে চলল তৃণমূলের কর্মী সম্মেলন। শুধু চড়া সুরে মাইক বাজানোই নয়, জাতীয় পতাকার উপরে দলীয় পতাকা উড়িয়ে চরম অবমাননার অভিযোগও উঠল এই সভা ঘিরে। আর এই গোটা ঘটনাটি ঘটল স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা সভাধিপতির উপস্থিতিতেই।

এদিন সভার শুরুতেই দেখা যায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। ভারতের জাতীয় পতাকার গরিমা ও ‘ফ্ল্যাগ কোড’-কে গুরুত্ব না দিয়েই তেরঙ্গার উপরে স্থান পায় তৃণমূলের জোড়াফুল পতাকা। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় পতাকার উচ্চতা সর্বদা অন্য সব পতাকার উপরে হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু শালবনীর এই সভায় বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো এবং জেলা সভাধিপতি-সহ প্রথম সারির জেলা নেতাদের উপস্থিতিতেই এই আইনি অবমাননা চলতে থাকে। যা দেখে স্তম্ভিত রাজনৈতিক ও সচেতন মহল।

মাইক-তাণ্ডব পর্ষদের স্পষ্ট নির্দেশিকা ছিল—মাধ্যমিক চলাকালীন শব্দবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। কিন্তু সভার জাঁকজমক দেখাতে শালবনী বিধানসভার আনাচে-কানাচে বসানো হয়েছিল জোরালো চং ও বক্স। চড়া সুরে চলে মাইকের আস্ফালন। অভিযোগ, এতে গভীর সমস্যায় পড়তে হয় পরীক্ষার্থীদের। অভিভাবকদের প্রশ্ন, “বিধায়ক থেকে জেলা সভাধিপতি—একগুচ্ছ হেভিওয়েট নেতা মঞ্চে বসে থাকলেন, অথচ মাধ্যমিকের সময় মাইক বাজানো যে অন্যায়, সেই বোধটুকু কি কারও ছিল না?”

এদিনের কর্মী সম্মেলনে স্থানীয় বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্তরের শীর্ষ নেতারা কীভাবে প্রশাসন ও সংবিধানের অবমাননা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, “প্রশাসনের মদত আর নেতাদের দম্ভের কারণেই দেশের পতাকা আর ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আজ বিপন্ন।”

একের পর এক বিধিভঙ্গের অভিযোগে এদিন উত্তাল হয়ে ওঠে শালবনী বিধানসভা এলাকা। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বরা এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ক্ষমতার দম্ভে শাসকদল এখন সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধা এবং দেশের সম্মানের তোয়াক্কা করাও ছেড়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তৃণমূলের কোনো শীর্ষ নেতৃত্ব এই দ্বিবিধ বিতর্কের দায় স্বীকার করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *