মাজারে সিরনি, পাশেই হরিনাম—ধলদিঘির উরস উৎসবে সম্প্রীতির বার্তা।
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রথা মেনে মাজারে সিরনি চড়িয়ে জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের মাজারে উরস উৎসব পালন করলেন হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।পাশাপাশি পির মাজারের পাশে চলল হরিনাম সংকর্তীন। স্বাভাবিক ভাবেই সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠল গঙ্গারামপুরের ধলদিঘিতে ।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাজার গুলির মধ্যে অন্যতম ও ঐতিহাসিক মাজার গঙ্গারামপুরের ধলদিঘির জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের মাজার। টাটশাহী ফরিকের মাজার ঘিরে ইতিহাস বিদদের মধ্যে নানান মত রয়েছে। লুকিয়ে রয়েছে বহু জানা আজানা ইতিহাস।
কথিত আছে সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিক ছিলেন একজন ইসলামিক ধর্ম প্রচারক। প্রায় ২৫২ বছর আগে তাঁর আস্তানা ছিল কটকিহারে । পরবর্তীতে তিনি ধলদিঘিতে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি ধর্ম প্রচার শুরু করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি জয়পুরে কান্তা বা পদ্মমনি নামে তাঁর একজন হিন্দু শিষ্য ছিলেন। জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিক সারা বছর আস্তানা থেকে বের হতে না। কিন্তু ২৫ শে মাঘ হলে ভোর বেলায় তিনি আস্তা থেকে বেরিয়ে ধলদিঘিতে স্নান সারতেন। স্নান সেরে চটের জামা কাপড় পড়ে আবার এক বছরের জন্য আস্তানায় প্রবেশ করতেন। যেহেতু তিনি চটের জামা কাপড় পড়ে থাকতেন তাই তাঁর নাম হয় টাটশাহী ফরিক। দেহ রাখার পর ধলদিঘির পাড়ে তাকে সমাধিত করা হয়। যেহেতু ২৫ শে মাঘ টাটশাহি ফকির আস্তানা থেকে বেরিয়ে স্নান সারতেন তাই প্রতিবছর এই দিনটিকে উরস উৎসব হিসাবে পালন করা হয়ে থাকে । জিন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের শিষ্য কান্তা দেহ রাখলে তাকেও মাজারের পাশে সমাধি করা হয়। তাই প্রতিবছর উরস উৎসবে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন ডগা পুজোর মাধ্যমে মাজারে পোলাও সহ মুরকি,বাতাসা দিয়ে সিন্নি দেওয়া দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে কান্তা বা পদ্মমনি সমাধিতে হরিনাম সংকর্তীন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রবিবার ছিল জৈন্দাপির সৈয়দ করম আলি শাহ টাটশাহী ফরিকের উরস উৎসব। রবিবার সকাল থেকে জেলার হরিরামপুর,কুশমন্ডি, বংশীহারী,তপন,বালুরঘাট, হিলি,কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুর ব্লকের আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষজন ধলদিঘিতে এসে হাজির হন। বেলা দুটো বাজতে ধলদিঘির দুই পারে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ উনন কেটে পোলাও রান্না করে শুরু করেন। বেলা বাড়তে মুরকি,ঘোড়া সহ পোলাও দিয়ে মাজারে সিন্নি দিতে ভিড় জমান। বহু মানুষ ধলদিঘির পাড়েই রান্না করে খাওয়া দাওয়া সারেন। জমে ওঠে মেলা।

