‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের সোলার লাইট দলীয় অফিসে! ইংরেজবাজারে শোরগোল।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– সরকারি টাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে সোলার লাইট! তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ের বাইরে সোলার লাইট বসানোর প্রতিবাদে সোচ্চার গ্রামবাসীরা। লিখিত অভিযোগ দায়ের থানায়। মালদার ইংলিশ বাজার পঞ্চায়েত সমিতির বাগবাড়ি ৫২ বিঘা এলাকার ঘটনা। কাঠগড়ায়
ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সম্পা সেনের স্বামী তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সেন। যদিও তার পাল্টা দাবি এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হলেই সেই কাজে বাধা দেওয়া বিজেপির একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।জানা গিয়েছে মালদার ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের বাগবাড়ি বাহান্ন বিঘা গ্রামে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পের মাধ্যমে তিনটি সোলার লাইট বরাদ্দ হয়। ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে এই লাইট গুলো লাগানো হয়। অভিযোগ দুটি লাইট যথাস্থানে লাগানো হলেও একটি লাইট গ্রামের পাশেই একটি ফাঁকা জায়গায় অবস্থিত তৃণমূলের পার্টি অফিসের বাইরে বসানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়েছে এলাকায়। থানায় ও জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের হয়েছে।
অভিযোগকারী বাপ্পা মন্ডল বলেন, তৃণমূলের ওই পার্টি অফিস টি বেআইনি। দেবত্বর সম্পত্তির মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সোলার আলোর ব্যবস্থা করা হয় গ্রামে। কিন্তু সেই লাইট পার্টি অফিসে লাগানো হয়েছে। এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি।
এলাকার বাসিন্দা সরস্বতী মন্ডল, বিউটি গোস্বামী জানান যেখানে পাড়ার সমস্যার জন্য সরকার আমার পাড়া আমার সমাধান প্রকল্প চালু করেছেন সেখানে দেখা যাচ্ছে সেই প্রকল্পের বরাদ্দ হওয়া সোলার লাইট সেই এলাকায় না বসিয়ে তৃণমূল পার্টি অফিসে বসানো হচ্ছে। এর আমরা প্রতিবাদ করি এবং এরই পাশাপাশি দাবি জানাই সেই তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে সোলার লাইট উঠিয়ে সঠিক জায়গায় বসানো হোক।
দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জানান তৃণমূল সরকারের আসার পর থেকে উন্নয়ন বলতে শুধু তৃণমূলের নেতাদের কর্মীদের উন্নয়ন হয়েছে । ২০২৬ সালে এ তৃণমূল সরকারকে না, সরালে সাধারণ মানুষের টাকা তছরুপ সেটা থামবে না । আগামী দিনে গ্রামবাসীদের নিয়ে আমরা এর বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো ।
ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শম্পা সেনের স্বামী বিশ্বজিৎ সেন জানান যে অভিযোগটি করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যারা অভিযোগ করছে তারা বিজেপির উস্কানিতে করছে।
মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন জানান সরকার যখন কোন কাজ শুরু করে তখন সে ক্ষেত্রে যে এলাকা যার নাম থাকে সেই নির্দিষ্ট জায়গাতেই সে কাজ করা হয় । সে ক্ষেত্রে সেই কাজে যদি কোন বেনিয়ম হয়ে থাকে সেটা তদন্ত করে দেখা হবে ।

