মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় সরকারি জলের ট্যাঙ্কে ফাটল, নিম্নমানের কাজের অভিযোগে চাঞ্চল্য।

মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ বড়ঞা থানার খোরজুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবানী নগর গ্রামে উদ্বোধনের আগেই হেলে বেঁকে পড়ল জলের ট্যাঙ্ক।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের প্রকল্প ‘পাড়ায় সমাধান’-এর কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকে। খোরজুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাবনীনগর এলাকায় মসজিদের কাছে নির্মিত একটি জলের ট্যাঙ্ক চালুর আগেই বেঁকে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই বিপত্তি।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভাবনীনগর মসজিদের কাছে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে সরকারি উদ্যোগে একটি জলের ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই দেখা যায়, ট্যাঙ্কটি একপাশে বিপজ্জনকভাবে হেলে এবং বেঁকে পড়েছে এবং কাঠামোতে বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরকারি বোর্ড অনুযায়ী, এই কাজের
প্রকল্পের নাম: আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান (APAS)
স্কিম: অ্যাপসা (APAS)
NIeT নং: 12/BRN/25-26/APAS তারিখ: ১৫/১০/২০২৫
বরাদ্দ অর্থ: ১,৯৫,৭৭৪ টাকা
বাস্তবায়নে: খোরজুনা গ্রাম পঞ্চায়েত, বড়ঞা ব্লক
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই লক্ষ টাকা সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ করা হলেও তার সঠিক ব্যবহার হয়নি। নির্মাণের সময় অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান, “টাকা লুট করার জন্যই তড়িঘড়ি করে এই কাজ করা হয়েছে। এখন জল ভরার আগেই যদি ট্যাঙ্ক বেঁকে যায়, তবে জল ভরলে তো তা মানুষের মাথার ওপর ভেঙে পড়বে।”
গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ ভেঙে ফেলে সরকারি সিডিউল মেনে নতুন করে মজবুত জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করতে হবে। এই বিষয়ে তাঁরা ব্লক প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের টাকা নয়ছয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *