বিহারের পর এবার লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ—মালদার সভা থেকে তৃণমূলকে নির্মম আখ্যা মোদীর।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– মালদহে দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের এর শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে আরও ছয়টি অমৃত ভারত ট্রেনের উদ্বোধন করবেন তিনি।প্রায় দুপুর ১ নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টারে এসে পৌঁছবেন মালদহের ইংরেজবাজারে। ঝলঝলিয়া লক্ষণ সেন স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারে নামার পর তিনি প্রথমে মালদা টাউন স্টেশনে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন। সেখানে স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গেও কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রীর। সেখন থেকে হেলিকপ্টারে চলে আসেন সাহাপুর বাইপাসের জনসভায় সেখান থেকে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
বিহার জয়ের পর এবার লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ। এদিন ফের তা বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মালদার সভামঞ্চ থেকে আগাগোড়া নিশানা করলেন তৃণমূল সরকারকে। শুধু তা-ই নয়, এদিন বারবার তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন ‘নির্মম’ বলে। ডাক দিলেন, ‘এত নির্মম সরকারের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় প্রয়োজন।’ সঙ্গে ব্যাখ্যা দিলেন কেন নির্মম বলছেন, তারও। মোদির কথায়, “আমি চাই, দেশের বাকি অংশের মতো বাংলার গরিবরাও ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা পান। এখানে আয়ূষ্মান ভারত যোজনা লাগু হোক। কিন্তু, আজ বাংলা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র এমন রাজ্য যেখানে ৫ লক্ষ টাকার আয়ূষ্মান যোজনা লাগু হতে দেওয়া হয়নি। বিগত কয়েক বছরে এই যোজনায় দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ নিজেদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু, তৃণমূল বাংলায় গরিব ভাই-বোনদের আয়ূষ্মান যোজনার লাভ নিতে দেয় না। এত নির্মম সরকারের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় প্রয়োজন।” দ্বিতীয় যুক্তি হিসাবে তুলে ধরেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশে পিএম সূর্যঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা এনেছে। লাখ লাখ পরিবার এর লাভ নিয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে সোলার প্ল্যান্ট লাগিয়েছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এজন্য হাজার হাজার কোটি টাকা জারি করেছে। আমি চাই, পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ পরিবারও এই বিনামূল্যে বিদ্যুতের লাভ পাক। আপনাদের ঘরে বিদ্যুতের বিলও শূন্য হয়ে যাক। কিন্তু, গরিবের ভাল হয় এমন সব কাজ এখানকার নির্মম তৃণমূল সরকার এগোতে দেয় না।”প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে মালদার কথা। মালদার বিভিন্ন সমস্যার জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। মোদি বলেন, “এখানে না ফ্যাক্টরি তৈরি হচ্ছে, না কৃষকরা কোনও সুবিধা পাচ্ছেন। মালদা-মুর্শিদাবাদের যুবকদের রুজি-রুটির জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এখানকার আম চাষিদের অবস্থা বেহাল। তৃণমূল সরকার এখানে আমের সঙ্গে জড়িত উদ্যোগ বাড়ানোর জন্য ঠিক করে কাজ করেনি। আমের প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে কোনও বড় চিন্তাভাবনা দেখা যায়নি। আপনাদের অধিকারের টাকাও আপনাদের দেয়নি।” অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ নিয়েও সরব হন। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বারবার আক্রমণ করেন তৃণমূলকে।

