দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ, বালুরঘাটবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ।
বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা :- বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটল আজ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রেল মানচিত্রে যুক্ত হলো বহুদিনের দাবি পূরণ করা বালুরঘাট–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস। শনিবার দুপুরে মালদা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্বোধনের মুহূর্তে উন্নত মানের এলএইচবি কোচযুক্ত ট্রেনটি উপস্থিত ছিল বালুরঘাট রেল স্টেশনেই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরেই প্রথমবারের মতো বালুরঘাট থেকে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা দেয় এই এক্সপ্রেস ট্রেন।
উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সাজো সাজো চেহারা নিয়েছিল বালুরঘাট রেল স্টেশন চত্বর। স্টেশন এলাকাজুড়ে করা হয় ফুলের সাজ। প্যান্ডেল খাটিয়ে তৈরি করা হয় উদ্বোধনী মঞ্চ। রেল সূত্রে জানা যায়, ভারত সরকারের উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রকের অ্যাডিশনাল পার্সোনাল সেক্রেটারি অজয়কান্তি সরকার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
উদ্বোধনের আগেই শুক্রবার দুপুরে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বালুরঘাট রেল স্টেশন পরিদর্শনে আসেন কাটিহার ডিভিশনের অ্যাডিশনাল রিজিওনাল ম্যানেজার মনোজ কুমার সিং-সহ অন্যান্য রেলকর্তারা। স্টেশনের পরিকাঠামো, যাত্রী পরিষেবা এবং উদ্বোধনী ব্যবস্থার দিকটি খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল আঁটসাঁট। আরপিএফ ও জিআরপি থানার পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বরে বাড়ানো হয় নজরদারি।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বালুরঘাট থেকে সরাসরি দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় খুশির হাওয়া জেলাজুড়ে। জেলার বহু মানুষ চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ-সহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করেন। এতদিন তাঁদের কলকাতায় গিয়ে ট্রেন ধরতে হতো। নতুন এই ট্রেন চালু হওয়ায় এখন সরাসরি বালুরঘাট থেকেই বেঙ্গালুরু পৌঁছনো সম্ভব হবে।
প্রথম পর্যায়ে এই রুটে অমৃত ভারত ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করা হলেও, তাতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কোচ না থাকায় পরে এলএইচবি কোচযুক্ত দ্রুতগামী মেইল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী সুরক্ষা ও সুষ্ঠু পরিষেবা নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিস্বর রায় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রেনের দাবিতে আমরা রেলমন্ত্রী ও সাংসদের কাছে আবেদন জানিয়ে এসেছি। প্রান্তিক এই জেলার জন্য ট্রেনটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। আজ সেই দাবি পূরণ হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
বালুরঘাটের শিক্ষক অসিতকুমার সরকার জানান, “বছরে দু’বার বাবাকে নিয়ে বেঙ্গালুরু চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। এতদিন কলকাতা হয়ে যেতে হতো। এখন বালুরঘাট থেকেই সরাসরি বেঙ্গালুরু যেতে পারব। এটা আমাদের মতো অনেকের জন্যই বড় সুবিধা।”
প্রান্তিক জেলার রেল যোগাযোগে বালুরঘাট–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস যে নতুন দিগন্তের সূচনা করল, সে বিষয়ে একমত প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই।

