P-এর পর অক্ষর বলতে না পারায় শিশুকে আছাড়! অন্ডালে গৃহশিক্ষকের নৃশংসতা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, অন্ডাল, পশ্চিম বর্ধমান:- সামান্য ভুলের জন্য এক এল.কে.জি পড়ুয়াকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে গৃহশিক্ষককে আটক করল পুলিশ। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার অন্ডাল থানার অন্তর্গত জামবাদ এলাকায়। অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের নাম নিরজ বার্ণওয়াল। তিনি জামুরিয়া থানার কেন্দাফাঁড়ির অধীন পড়াশিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় গৃহশিক্ষক।
সূত্রের খবর, অন্যান্য দিনের মতো ওই দিনও নিরজ বার্ণওয়াল জামবাদের একটি বাড়িতে পড়াতে যান। সেখানে এল.কে.জি-র ছাত্র চন্দন মাঝিকে ইংরেজি বর্ণমালা শেখানোর সময় ‘P’-এর পর কোন অক্ষর আসে—এই প্রশ্ন করেন শিক্ষক। শিক্ষকের বকুনিতে ভয় পেয়ে ছাত্রটি উত্তর দিতে না পারতেই আচমকাই শিক্ষক রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন।
অভিযোগ, এরপর জামার হাত গুটিয়ে শিশুটিকে সপাটে চড় মারেন, মাথা নিচু করে পিঠে একাধিক ঘুষি মারেন এবং কলার ধরে তুলে মাটিতে আছাড় দেন। যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। পুরো ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিও ভাইরাল হতেই অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার হরিপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত গৃহশিক্ষককে আটক করে।
একজন খুদে পড়ুয়ার প্রতি শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *