সীমান্ত শহর বালুরঘাটে সেনার শক্তি প্রদর্শন, ‘স্বশক্ত সেনা’-র গর্জনে কাঁপল এলাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদী শক্তির তরফে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ দখলের হুংকার যখন সংবাদ শিরোনামে, ঠিক তখনই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বালুরঘাট শহরে চোখে পড়ল ভারতীয় সেনার পরাক্রম। ২১ ও ২২ ডিসেম্বর—দু’দিন ধরে বালুরঘাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভারতীয় সেনার মহড়া ও প্রদর্শনী কর্মসূচি ‘স্বশক্ত সেনা, বিকশিত ভারত’। কার্যত এক সেনা মেলায় পরিণত হয় এই কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিধায়ক বুধরাই টুডু, বিধায়ক সত্যেন রায়-সহ প্রশাসন ও সেনা আধিকারিকরা। সেনা মহড়ায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্রের প্রদর্শন ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ১৫৫ মিমি নোগ্রাস কামান, এল-৭০ এয়ার ডিফেন্স রাডার, ১৩০ মিমি মিও আর্ম গানার-সহ নানা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয় ড্রোন ও রোবট কুকুরের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও।
শুধু অস্ত্র প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি অনুষ্ঠান। কুমায়ুন রেজিমেন্ট, গোরখা রেজিমেন্ট, মারাঠা রেজিমেন্ট-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেনা সদস্যদের পরিবেশনায় মন জয় করে নেয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভাঙড়া নৃত্য থেকে শুরু করে শারীরিক কসরত, এমনকি আর্মি ডগদের নানা কৌশল প্রদর্শন—সব মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানে উপচে পড়ে ভিড়।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “‘স্বশক্ত সেনা, বিকশিত ভারত’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই এই সেনা মেলার আয়োজন। এখানে শুধু সেনাবাহিনীর যুদ্ধকৌশল নয়, যুবসমাজের কাছে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদীদের হুংকার প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “ফাঁকা কলসি বাজে বেশি।” পাশেই রাখা বফর্স কামানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ওদের শান্ত করতে এরকম পাঁচটা থাকলেই যথেষ্ট।”
সব মিলিয়ে সীমান্ত শহর বালুরঘাটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই শক্তি প্রদর্শন দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগাল। দেশের সুরক্ষায় সেনার পরাক্রম প্রত্যক্ষ করে গর্বিত বালুরঘাট—গর্বিত।

