দিল্লির লালকেল্লা – ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মহিমা।
ভারতের রাজধানী দিল্লির হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লালকেল্লা (Red Fort) ভারতের ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক মহৎ নিদর্শন। ১৭শ শতকে মুঘল সম্রাট শাহজাহান এই দুর্গ নির্মাণ করেন, যা আজও ভারতের স্বাধীনতা ও গৌরবের প্রতীক।
🏯 ইতিহাস ও স্থাপত্য
লালকেল্লা নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩৮ সালে এবং ১৬৪৮ সালে এর কাজ সম্পূর্ণ হয়।
- এটি সম্পূর্ণ লাল বেলেপাথরে তৈরি।
- মুঘল স্থাপত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- দুর্গের ভিতরে দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস, মুমতাজ মহল, রং মহল প্রভৃতি মনোরম স্থাপত্যকীর্তি রয়েছে।
এখান থেকে ভারতের স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই ঐতিহ্য আজও বজায় আছে।
🌟 দর্শনীয় অংশ
1️⃣ লাহোর গেট
লালকেল্লার প্রধান প্রবেশদ্বার, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীর ভিড় হয়।
2️⃣ দেওয়ান-ই-আম
এখানে সম্রাট সাধারণ মানুষের দরবার করতেন। বড় বড় খিলান ও খোদাই করা স্তম্ভ এর সৌন্দর্য বাড়ায়।
3️⃣ দেওয়ান-ই-খাস
এটি ছিল রাজকীয় সভাকক্ষ, যেখানে “তখত-এ-তাউস” (ময়ূরের সিংহাসন) বসানো ছিল।
4️⃣ মুমতাজ মহল ও রং মহল
এখানকার সুদৃশ্য প্রাসাদগুলো রাজপরিবারের আবাসস্থল ছিল। দেয়ালে সুন্দর রঙিন নকশা এখনও দৃষ্টি কাড়ে।
5️⃣ মিউজিয়াম
দুর্গের ভিতরে রয়েছে একটি জাদুঘর, যেখানে মুঘল যুগের অস্ত্রশস্ত্র, চিত্রকলা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত।
🌅 লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো
সন্ধ্যায় লালকেল্লায় আয়োজন করা হয় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, যেখানে আলো ও শব্দের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসের কাহিনী তুলে ধরা হয়।
এটি ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
🍲 আশেপাশের খাবার ও কেনাকাটা
লালকেল্লার আশেপাশে চাঁদনি চক এর বিখ্যাত খাবার যেমন পরোটা, চাট, জলেবি চেখে দেখা যায়।
এছাড়াও এখানে রয়েছে নানা হস্তশিল্প, জামাকাপড় ও গহনার দোকান।
🚗 ভ্রমণ উপায়
- ✈️ বিমানপথে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Delhi Airport)।
- 🚉 মেট্রো: চাঁদনি চক বা লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন থেকে সহজে পৌঁছানো যায়।
- 🚗 সড়কপথে: দিল্লির যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, অটো, ট্যাক্সিতে পৌঁছানো সম্ভব।
🏞️ উপসংহার
লালকেল্লা শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতার প্রতীক। এর মহিমা, শিল্পকলা ও ইতিহাস দর্শকদের মনকে গর্বিত করে। দিল্লি ভ্রমণে লালকেল্লা দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

