পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে আব্দুর রাজ্জাকের পরিবার।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ — এক টোটো চালককে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল চাঁচলের মালতিপুর পঞ্চায়েতের গঙ্গাদেবী গ্রামে। অভিযোগ, দিনের বিকেল বেলা প্রকাশ্য আলোয় নৃশংসভাবে সেই টোটো চালককে দুষ্কৃতীরা খুন করে বলে অভিযোগ । মৃত টোটো চালকের নাম আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজু (৪০)। রতুয়া থানার সামসি পঞ্চায়েতের ভগবানপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি। তার বাবা মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, ছেলে বুধবার বিকাল প্রায় তিনটা নাগাত মাখনার জমি থেকে শ্রমিক ও মাখনা আনতে গিয়েছিল। তার ঘন্টা খানেক পরে জানতে পারি, কেউ বা কারা তাকে বারংবার ছুরি ঘাতে খুন করেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করি। তাকে সামসি হাসপাতালে নিয়ে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে মৃতদেহ আটকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আত্নীয় ও গ্রামের বাসিন্দারা।দিনের বেলায় এক যুবককে খুন করা হলো আর দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেল এটা তারা মেনে নিতে পারছেন না। সামসি হাসপাতালে হাজির হয়ে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠাতে চাইলে বাধার মুখে পড়তে হয় সামসি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রামচন্দ্র সাহাকে। তিনি টোটো চালকের আত্মীয়-স্বজনদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, খুনের ঘটনাটি যেহেতু চাঁচল থানা এলাকায় ঘটেছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে চাঁচল থানা। যেহেতু সামসি হাসপাতালে মৃতদেহ আনা হয়েছে তাই সেটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর দায়িত্ব তাদের। মৃত টোটোচালকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে তার চারটি ছেলে মেয়ে রয়েছে। মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী লুৎফা বিবি জানান তিনটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে তাদের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল তার স্বামী। গ্রামের এক নিরীহ মানুষকে খুন করায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসীরাও। খুনিদের গ্রেপ্তার করে তাদের চরম শাস্তি দাবি করেছেন তারা। চাঁচল থানার পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে , খুনের ঘটনায় সেলিম আক্তার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেলিমের বাড়ি গঙ্গা দেবী এলাকায়। সে একজন পরিযায়ী শ্রমিক। তিনদিন আগে সে বাড়ি ফিরেছে। স্থানীয়রা জানান, সেলিম মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিল। বচসার জেরে সে হাঁসুয়া দিয়ে আবদুর রাজ্জাককে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করে খুনের আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *