বালুরঘাটের নামী হাইস্কুলে নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে মধুচক্রের অভিযোগ, সাসপেন্ড অভিযুক্ত।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা;- বালুরঘাটের এক নামী হাইস্কুলে রাতের অন্ধকারে অসামাজিক কাজকর্ম চলার অভিযোগ কে ঘিরে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগের তির উঠেছে বহুদিনের অস্থায়ী নৈশপ্রহরীর দিকে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের বাদামাইল লক্ষ্মীপ্রতাপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

অভিযোগ, কানু দেবনাথ নামে ওই নৈশপ্রহরী দীর্ঘদিন ধরেই সিসিটিভি বন্ধ করে বহিরাগতদের স্কুলে প্রবেশ করাতেন। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিতভাবেই রাতের অন্ধকারে মহিলা ও পুরুষদের ঢুকিয়ে ভেতরে চলত মধুচক্র। বুধবার রাতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বাদামাইল এলাকায় তৈরি হয় তীব্র হইচই। খবর পেয়ে মহিলার পরিবারের সদস্যরা রাতেই স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।

যদিও মধুচক্র চালানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। তাঁর দাবি, এক বিধবা মহিলাকে তিনি কেবল শর্টকাট রাস্তা দিয়ে স্কুলের ভেতর দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। রাতের অন্ধকারে স্কুল চত্বরে প্রবেশ করানোর কারণে সিসিটিভি বন্ধ করেছিলেন বলেই ব্যাখ্যা তাঁর। তবে এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, অনেকদিন ধরেই গোপনে এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন নৈশপ্রহরী।

এদিকে, ঘটনা সামনে আসতেই তড়িঘড়ি নড়ে বসেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাদামাইল লক্ষ্মী প্রতাপ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার লাহিড়ী জানিয়েছেন, “অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখি। তারপরেই ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত নৈশপ্রহরীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এরপর কমিটির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কৌশিক তালুকদার বলেন, “কোনওভাবেই স্কুলের ভেতরে এধরনের কাজ মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর সিদ্ধান্তই নেবে কমিটি।”

যদিও এখনও পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এত গুরুতর ঘটনার পরও কেন আইনি পথে হাঁটছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাদামাইলের বহু পুরনো এই স্কুল খেলাধুলা থেকে সংস্কৃতির জগতে নাম কুড়িয়েছে বহুবার। সেই স্কুলেই মধুচক্র চালানোর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *