জরুরি রোগী নিয়ে ঢোকা কঠিন, রাস্তার দুই ধারে বিপজ্জনক গ্যাস চুল্লি—বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা:- মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাই চরম বিপাকে এম্বুলেন্স চালক ও রোগী সহ আত্মীয়-স্বজনরা। মেডিকেল কলেজের মাতৃমা ভবনের মূল গেটের রাস্তা এখন অবৈধভাবে দোকানদারদের দখলে। জেলা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও প্রতিনিয়ত প্রায় হাজারো রোগী সহ আত্মীয়-স্বজনরা এই রাস্তা দিয়ে ভয়ে মেডিকেল কলেজে যাওয়া-আসা করে। টেম্বুলেন্সে জরুরী ভিত্তিতে রোগীকে নিয়ে ঢোকার কোনই উপায় নেই মেডিকেল কলেজের মাতৃমা ভবনে। কারণ সেখানে ঢোকার মুখেই রাস্তার দুই পাস দখল করে রয়েছে জামা কাপড়ের দোকান সহ বিভিন্ন খাদ্য খাবারের দোকান। আর সেখানেই বিপদজনকভাবে গ্যাসের আগুন জ্বালিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ভাজাপোড়া। যেকোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। তাই জরুরী ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজে রোগীদের নিয়ে ঢুকতে না পেরে বাধ্য হয়ে সময় নষ্ট করে ঘুর পথে ঢুকতে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের। বিষয়টি দ্রুত মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে দোকানদাররাও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এভাবেই বসে রয়েছেন তবে রোগীদের যাতায়াতে অসুবিধা হয় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে তা স্বীকার করে নেন।
বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায়কে ধরলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত বিপদজনক, অ্যাম্বুলেন্স চালকরা সেখান দিয়ে দ্রুত রোগী নিয়ে ঢুকতে পারছে না, রাস্তার দুই ধার দখল করে রয়েছে দোকানদাররা, বিপদজনকভাবে গ্যাস জালানো হচ্ছে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। দোকানদারদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে, যদি তারা না সরে তবে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য তথা ইংরেজ বাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড আলোচনা হয়েছে, মেডিকেল কলেজ চত্বরের ভেতর এবং বাহির কোনভাবে জবরদখল ও অসামাজিক কাজকর্ম চলতে দেওয়া হবে না দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ী বলেন, এত বড় মালদা মেডিক্যাল কলেজ নামেই মেডিকেল কলেজ, মাতৃমা বিভাগের সামনে যেভাবে হকাররা বসে রয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন জ্বালিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা করতে পারে, অথচ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই, বিষয়টি কয়েকদিন দেখব তারপর বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

