নিম্নমানের স্কুল ইউনিফর্ম ও মজুরি কেলেঙ্কারি: কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে জেলাশাসক।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ —হরিশ্চন্দ্রপুর,১৯ জুলাই : মন্ত্রীর গড়ে এবার সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পোশাক নিয়ে বড় দুর্নীতির ছায়া। নিম্নমানের পোশাক থেকে শুরু করে সেলাইয়ের জন্য কম মজুরি। কংগ্রেস সিপিএম জোট পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ।অভিযোগ খোদ শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের। আরটিআই করেও মেলেনি যথোপযুক্ত উত্তর বলে দাবি। তৃণমূল নেতাদের সাথে নিয়ে এই দুর্নীতি করছে সভাপতি। অভিযোগ শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের।পাল্টা জোটকে নিশানা তৃণমূলের।ধার্য মজুরির থেকেও কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে। এমনটা অভিযোগ আবার পোশাক সেলাইয়ের দায়িত্ব থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির সম্ভাবনা। তদন্তের নির্দেশ জেলা শাসকের। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক এলাকায় যে অভিযোগ সামনে আসতেই জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতি বর্তমানে কংগ্রেস সিপিএম জোটের দখলে। সভাপতি রয়েছেন কংগ্রেসের তহমিনা খাতুন। পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নরেন্দ্রনাথ সাহা বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেন। তিনি দেখতে পান পড়ুয়াদের যে পোশাক দেওয়া হচ্ছে সেই পোশাকের কাপড় অত্যন্ত নিম্নমানের। ঠিক করে করা হচ্ছে না সেলাই।রাজ্য সরকার থেকে পোশাকের জন্য যে কাপড় দেওয়া হচ্ছে। সেই কাপড় ব্যবহার হচ্ছে না। তারপর তিনি আরটিআই করেন। কিন্তু সঠিক উত্তর পাননি বলে দাবি।শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের অভিযোগ এই পোশাকের কাপড় নিয়ে বড় রকমের দুর্নীতি হচ্ছে।সরকার যে কাপড় দিচ্ছে সেই কাপড় বদলে দেওয়া হচ্ছে।সেলাইয়ের জন্য যে টাকা ধার্য হচ্ছে। সেটাও দুর্নীতি হচ্ছে। যার ফলে পড়ুয়ারা সঠিক পোশাক পাচ্ছে না। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশাসনিক আধিকারিক এবং তৃণমূল নেতাদের সাথে নিয়ে এই দুর্নীতি করছেন। ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ।এমনকি প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছেন। স্কুলের পড়ুয়াদের পোশাক তৈরির দায়িত্ব পান বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তাদের অভিযোগ প্রতি পোশাক পিছু মাত্র ১০ টাকা করে তারা পাচ্ছেন। কিন্তু অন্যান্য ব্লকে ধার্য থাকে ২১৮ টাকা। তারা এই নিয়ে অভিযোগ করলে ব্লক প্রশাসন তাদের ডেকে জানিয়েছেন সেলাইয়ের জন্য বরাদ্দ থাকছে ২৯ টাকা। যদি সেটাও থাকে তবে পোশাক পিছু ১৯ টাকা যাচ্ছে কোথায়। সে ক্ষেত্রে একটা বড় রকমের দুর্নীতি হচ্ছে বলেই অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি এই পঞ্চায়েত সমিতি জোট পরিচালিত। তারা এই অভিযোগ এর আগেও করেছেন।এখন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষই নিজে করছেন অভিযোগ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে পঞ্চায়েত সমিতি জোট পরিচালিত হলেও। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে যে দুর্নীতি সে ক্ষেত্রে প্রশাসন কি করছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীই বা কি করছেন।যদিও বিডিওর দাবি যে বিষয় নিয়ে আরটিআই হয়ে ছিল তার জবাব দেওয়া হয়েছে। অন্য কোন অভিযোগ আসেনি।কারোর অভিযোগ থাকলে অভিযোগ করতেই পারে।পোশাক যে নিম্নমানের সেটা মেনে নিচ্ছে স্কুলগুলোও। সমগ্র ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া।যদিও প্রতিক্রিয়ার জন্য পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তহমিনা খাতুন কে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *