মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন? হাইকোর্টের নির্দেশে কল্যাণী এইমসে ময়নাতদন্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা—- মালদার মানিকচকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে ১৪ দিনের মাথায় মৃত ছাত্রের দেহ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হল কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে। হাইকোর্টের রায়ে বুধবার রাতে ভূতনীর কেদারটোলা থেকে মৃত ছাত্রের দেহ পুলিশের তদারকিতে কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ২রা জুলাই বুধবার গভীর রাতে মালদার মানিকচকে এক বেসরকারি স্কুলের হস্টেল ঘর থেকে শ্রীকান্ত মন্ডল নামে ১৪ বছরের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ভূতনীর হীরানন্দপুর অঞ্চলের কেদারটোলার ওই ছাত্রের হস্টেল ঘরে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যার দাবী করেন। এমনকি মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত ছাত্রের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আত্মহত্যার দাবী মানতে নারাজ হন মৃত ছাত্রের পরিবারবর্গ। তারা অভিযোগ করেন শ্রীকান্তকে স্কুলে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। তাই তারা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে মৃত ছাত্রের দেহ দ্বিতীয়বার কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করার দাবী তুলে মৃতদেহ বাড়িতেই ফ্রীজে সংরক্ষণ করে রাখেন এবং তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই ঘটনায় বুধবার হাইকোর্ট মৃত ছাত্রের দেহ পুনরায় ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মোতাবেক পরিবারের লোকজনেদের উপস্থিতিতে পুলিশ ফ্রীজে সংরক্ষণ করে রাখা দেহ গাড়িতে চাপিয়ে কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে নিয়ে যায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য। এই ঘটনাকে ভূতনীবাসীর ঐতিহাসিক জয় বলে দাবী করেন বিজেপি নেতা গৌড়চন্দ্র মন্ডল। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি মৃত ছাত্রের পরিবারের পাশে আছেন। সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবেন। আশা করছেন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে সঠিক মৃত্যুর সঠিক কারণ উঠে আসবে। মৃত ছাত্রের পরিবার সহ ভূতনীবাসী সুবিচার পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *