টেন্ডার কারচুপি করে ঘনিষ্ঠদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রধানের বিরুদ্ধে, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালিয়াচক মালদা: ফের কালিয়াচক তিন ব্লকের অন্তর্গত কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ আনল ওই পঞ্চায়েতেরই বিরোধী দলনেতা এবং ঠিকাদারেরা। আর এই নিয়েই বিডিও এবং জেলাশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের। ফলত ব্যাপক শোরগোল কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্দরে। এদিকে এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন প্রধানের টেন্ডারে অনিয়ম এবং কারচুপির কারণে থমকে রয়েছে এলাকার উন্নয়ন। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বাবলুর অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান পঞ্চায়েতের টেন্ডার করার নিয়ম নীতিকে একদমই পরোয়া করছেন না। নিয়ম বিরুদ্ধে ভাবেই তিনি নিজের লোকেদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই টেন্ডারে কারচুপি করছেন। যাতে অন্য কেউ কাজ না পান। তার কথায়, এর আগেও একই ভাবে তিনি টেন্ডারে অনিয়ম করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে সেই বিল তুলে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন । এই নিয়ে আমরা এর আগে প্রতিবাদও করেছিলাম। ওই পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য এবং বিরোধী দলনেতা ফেরাউন হোসেন জানিয়েছেন, দুটি টেন্ডারে প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষের কাজ হবে। প্রধান সেই কাজের টেন্ডার তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের পাইয়ে দেবার চেষ্টা করছেন। প্রথম থেকেই আমরা এর বিরোধিতা করছিলাম। তিনি কাজের টাকা আত্মসাৎ এর জন্যই টেন্ডারটিকে নিয়ম বিরুদ্ধ ভাবে করেছেন। আমরা ইতিমধ্যেই বিডিও ও জেলা শাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা চাই পুনরায় এই টেন্ডার ক্যানসেল করে পুনরায় টেন্ডারের নোটিশ দেওয়া হোক। বৈষ্ণব নগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত প্রধান সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কাজ করছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি জানতে পেরে বিডিও সাহেবকে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছি। কারণ আমাদের রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের উন্নয়ন চাই। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্যই টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তা যেন কেউ আত্মসাৎ না করে।
কালিয়াচক তিন ব্লকের বিডিও সুকান্ত শিকদার জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। সবদিক থেকেই বিষয়টিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা সেলিম শেখ জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত প্রধান আমাদের এলাকার উন্নয়নে কোন ভূমিকা গ্রহণ করছে না। আমরা চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।নির্দল থেকে নির্বাচিত প্রধান আব্দুল আহাদ সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, টেন্ডার নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। এখন যা অভিযোগ করা হচ্ছে তার কোনও যুক্তি নেই। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, বিরোধীরা এলাকার উন্নয়নের কাজে বাধা দিতেই এসব করছেন।
উল্লেখ্য প্রধান আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বাংলার আবাস যোজনার টাকা থেকে কাটমানি চাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেটাতে দেখা যাচ্ছিল একটি রেস্তোরায় সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের নিয়ে তিনি মিটিংয়ে প্রত্যেক বেনিফিসিয়ারির কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা বলছিলেন। এবং সেই টাকা বিডিওর কাছে পৌঁছে দিতে হবে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন সেই ভিডিওতে।
এছাড়াও এর আগেও একটি টেন্ডার তিনি কারচুপি করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়ার।

