“বাংলা ভাষা আমার গর্ব” — বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি নিপীড়নের প্রতিবাদে কলকাতায় তৃণমূলের মহামিছিল।
কলকাতা, নিজস্ব প্রতিবেদন: ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের উপর ধারাবাহিক “অমানবিক অত্যাচার” এবং “বাংলা বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র”-এর বিরুদ্ধে কলকাতার রাজপথে মহামিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন ও ভাষাগত বৈষম্য বেড়েই চলেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত বিশাল মিছিলের আয়োজন করে তৃণমূল।
মিছিলে অংশ নেন দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা, বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং ছাত্র-যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা। হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড—তাতে লেখা, “বাংলা ভাষা আমার গর্ব”, “বাঙালির উপর অত্যাচার চলবে না”, “বাংলা বিদ্বেষ রুখতে হবে”। স্লোগানে মুখরিত হয় কলকাতার রাজপথ।
তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার চালিত কিছু রাজ্যে বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চাকরি, বাসস্থান, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। এমনকি, বাংলা বলার অপরাধে মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে সম্প্রতি। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না বলে তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেন।
তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেন,
“বিজেপি ক্ষমতায় এলে হিন্দি চাপিয়ে দেয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তারা তুচ্ছ করে দেখে। এটা শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”
তিনি আরও বলেন,
“যে দল বাংলা নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, তারা আজ বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ভিন রাজ্যে হেনস্থা করছে। আমরা চুপ করে থাকব না। এই লড়াই চলবে।”
মিছিল শেষে ডোরিনা ক্রসিংয়ে এক প্রতীকী সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে দলের অন্যান্য নেতারা বলেন, বাংলা ভাষা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ভাষা। বাঙালিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ভারতের সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ। তাই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে এই মিছিলের মাধ্যমে।
এই মিছিল ঘিরে কলকাতা শহরের কেন্দ্রস্থলে তীব্র যানজট দেখা দেয়। তবে পুলিশের সহায়তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা ও বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রশ্নে তৃণমূলের এই রণনীতি ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস এই বার্তা দিতে চায়—বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি এবং বাঙালির সম্মান রক্ষায় তারা সদা সজাগ।

