বাংলার অপমানে তেতে উঠলেন মমতা, কেন্দ্রকে ধর্মতলা থেকে কড়া বার্তা।
কলকাতা, নিজস্ব প্রতিবেদন:- কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার প্রতি “অপমানজনক মনোভাব” প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে আজ কলকাতার রাজপথে মহামিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক-সহ হাজার হাজার দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
মিছিল শুরু হয় রেড রোড এলাকা থেকে এবং শেষ হয় ধর্মতলা সভামঞ্চে। পথজুড়ে ছিল ‘বাংলার অপমান আর নয়’, ‘বাংলা ভাষার অসম্মান চলবে না’—এই ধরনের স্লোগান। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও বাংলা ভাষার সমর্থনে ব্যানার।
সভামঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন,
“বাঙালিকে বারবার অপমান করা হচ্ছে। বাংলা ভাষার অবমাননা করা হচ্ছে। আমরা এটা আর সহ্য করব না। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাঙালির সংস্কৃতি, ভাষা ও আত্মসম্মানকে আঘাত করছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব—বাংলাকে অপমান করা বন্ধ করুন। বাংলা ভাষা ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা। এই ভাষাকে অবজ্ঞা করা মানে ভারতবর্ষকেই অপমান করা।”
অভিষেক ব্যানার্জি তাঁর বক্তব্যে জানান,
“এটা কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটা বাংলা ও বাঙালির আত্মসম্মানের লড়াই। আমরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই প্রতিবাদ করছি।”
ফিরহাদ হাকিম বলেন,
“যে ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, বিবেকানন্দ কথা বলেছেন, সেই ভাষাকে অবজ্ঞা করা দেশের একতাকে বিভক্ত করার চেষ্টা।”
এই প্রতিবাদ মিছিলের ফলে শহরের বেশ কিছু এলাকায় যানজট তৈরি হলেও মানুষের উৎসাহে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, শিক্ষার্থী, শিল্পী, লেখক ও সমাজকর্মীরাও এই মিছিলে পা মেলান। অনেকে বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলা ভাষা ও জাতিসত্তার ইস্যুকে আরও জোরালো করে তুলছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘অবাঙালি মনোভাব’ ও ‘উত্তরভারতকেন্দ্রিক মানসিকতা’র অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের আবেগকেই হাতিয়ার করতে চাইছে তারা।
এই মহামিছিল ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছে। কেন্দ্র কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা।

