‘সবুজ বাঁচাও সবুজ দেখাও, সবুজের মাঝে বিবেক জাগাও’ স্লোগানে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার মতো পূর্ব বর্ধমান জেলায় বনমহোৎসব ২০২৫ পালন করা হয়।
পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ‘সবুজ বাঁচাও সবুজ দেখাও, সবুজের মাঝে বিবেক জাগাও’ স্লোগানে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার মতো পূর্ব বর্ধমান জেলায় বনমহোৎসব ২০২৫ পালন করা হয়। মেমারি এক বিডিও অফিস প্রাঙ্গনে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে সকাল ১১ টায় মেমারি বামুনপাড়া মোড় থেকে বিডিও অফিস পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য র্যালি করা হয়। র্যালিতে পা মেলান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমান জেলা বন আধিকারিক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা মহোৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক সঞ্চিতা শর্মা, সহ বিভাগীয় অফিসারবৃন্দ, জেলা পরিষদ বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ ব্যানার্জী, মেমারি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ হাঁসদা সহ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যবৃন্দ এবং সকল গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষজন। মঞ্চে পরে আসেন বর্ধমান জিলা পরিষদ সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, সহ-সভাপতি গার্গী নাহা সহ অন্যান্য কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যবৃন্দ, বিধানসভার বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য, জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার সায়ক দাস, মেমারির ডিএসপি, সিআই সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর ব্লক অফিস প্রাঙ্গনে অতিথিবর্গ বৃক্ষরোপন করেন। বক্তব্যে সিসিএফও জানান পূর্ব বর্ধমান জেলায় সমগ্র ভূমির এক শতাংশ মাত্র অরণ্য। এডিএফও জানান বনমহোৎসব উপলক্ষে জেলা থেকে প্রায় চার লক্ষ গাছ প্রদান করা হচ্ছে এবং মেমারির উৎসব মঞ্চ থেকে ৫ ০০ গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন রেঞ্জ অফিস সহ আধিকারিকদের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট করে এই কর্মসূচি চলবে। এই বনমহোৎসব উপলক্ষে গতকাল ব্লক অফিস প্রাঙ্গনে স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটি অঙ্কন প্রতিযোগিতা করা হয়, তার প্রথম ১০ জনকে আজকের মঞ্চ থেকে মন্ত্রীসহ অতিথিবর্গের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। মন্ত্রী বলেন গাছ লাগানোর চেয়ে গাছকে বাঁচানোর তাগিদ অনেক বেশি, এ বিষয়ে সকলকেই দায়িত্বশীল হতে হবে।একই সঙ্গে জলের অপচয় না করার আহ্বান জানান তিনি। জেলা সভাধিপতি বন আধিকারিকের কাছে আবেদন করেন মেমারি শহরে পাঁচটি স্কুলের ছেলেমেয়েদের ফ্রিতে বর্ধমান রমনা বাগান পার্কে ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিতে। ছেলেমেয়েরা পশু প্রাণী ছাড়াও গাছগাছালির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। এই অনুষ্ঠানে নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, মুখাভিনয় সহ নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল, যা উপস্থিত সকলে উপভোগ করেন।

