আইসিডিএস এ চাকরির টোপ দিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা হাতানোর ঘটনা।

হরিশচন্দ্রপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এবার বোধহয় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়া অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করেছেন। যারা লাখ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দিয়ে চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরও টাকা ফেরত দেয়ার মানবিকতা দেখায়নি, এবার বোধহয় তাদের দিকে আঙ্গুল তোলা শুরু হয়ে গেল। অনেকেই বোধহয় অপেক্ষা করছিলেন কেউ তো শুরু করুক। যদিও এটা স্কুল শিক্ষকের চাকরির ঘটনা নয়, এটা আইসিডিএস এ চাকরির টোপ দিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা হাতানোর ঘটনা। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার হরিশ্চন্দ্রপুর সদরের বাসিন্দা দুই বোন পুতুলনেশা পারভীন এবং হাজেরা খাতুন। অভিযোগ বিধানসভা ভোটের আগে এই দুই বোনকে অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরি দেওয়ার নাম করে বেশ কয়েক দফায় মোট ১৬ লক্ষ টাকা নেন মালদা জেলা তৃণমূলের জয় হিন্দ বাহিনীর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। পনেরো দিনের মধ্যে হয়ে যাবে চাকরি। চাকরির আশায় নিজেদের শেষ সম্বল জমি বেঁচে এবং সঞ্চিত কিছু অর্থ থেকে ওই নেতাকে টাকা দিয়েছিলেন পিতা হারা দুই বোন। কিন্তু চাকরি দূর অস্ত। দেড় বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও টাকা ফেরত পায়নি তারা। চাইতে গেলে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হরিশচন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের কাছে আসেন জাহাঙ্গীর আলম। খবর পেয়েই তার কাছে টাকার জন্য যান পুতুলনেশা পারভীন। কিন্তু অভিযোগ সেই সময় তাকে গলা টিপে ধরে পেটে লাথি মারেন ওই তৃণমূল নেতা। প্রকাশ্য দিবালোকে এক মহিলাকে মারধর করতে দেখায় ছুটে আসে এলাকাবাসী। পাল্টা ওই নেতাকে গণপ্রহার দেয় এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে নিয়ে যায়। এই মুহূর্তে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীন হাসপাতালে চিকিৎসা করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন পুতুলনেশা পারভীন। তাদের দাবি তাদেরকে টাকা ফেরত দিতে হবে। সাথে এক মহিলার গায়ে হাত তোলার জন্য ওই নেতার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দুই বোন।যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি তিনি কোন টাকা নেননি। ওই মহিলা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতেন। এই সব কারণে প্রতিহিংসাবসত তাকে ফাঁসাচ্ছেন। তৃণমূলের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরে গেছে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির। সাফাই তৃণমূলের। তুঙ্গে তরজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *