ড্যাম নির্মাণের কাজে নিয়োজিত এজেন্সির বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকারকে ( এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার)।
দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বালুরঘাটে আত্রেয়ীর বক্ষে নির্মিত চেক ড্যাম ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় রাজ্য সরকারের তরফে শাস্তিমূলক একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হল অবশেষে। ড্যাম নির্মাণের কাজে নিয়োজিত এজেন্সির বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সেচ দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকারকে ( এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার)। এছাড়া এই কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সেচ দপ্তরের ৬ জন ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে ইতিমধ্যে। পাশাপাশি, ঘটনার দিন নিজের কার্যালয়ে না থাকায় শোকজ করা হয়েছে চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে (উত্তর)। সেইসঙ্গে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে তা রাজ্য সরকারকে অতি সত্বর রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বছর পাঁচেক আগে পাশ্ববর্তী দেশ আত্রেয়ীর জল আটকে দেয়। ফলে বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুরের আত্রেয়ীর বক্ষে জল পেতেন না মানুষ। চাষাবাদের সমস্যা হত। সেই সমস্যা দূর করতে এই ড্যাম তৈরি করা হয়।
প্রসঙ্গত, নিজেদের এলাকায় র্যাবার ড্যাম করে আত্রেয়ী নদীর জল নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ। খরার মরশুমে প্রায় জল শুন্য অবস্থায় থাকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ও কুমারগঞ্জের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত আত্রেয়ীর বিস্তৃর্ণ এলাকা। এই নদীর জলস্তর স্বাভাবিক রাখতে বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীর বুকে দ্রুত চেক ড্যাম বা স্বল্প উচ্চতার বাঁধ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মাছ চাষ, কৃষিসেচ সহ ওই নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে ওই প্রকল্পটি। ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দে কাজটি শেষ হয় ২০২৩ সালে। মানুষের চরম উপকারে আসে ১৯৫ মিটার লম্বা এবং ২ মিটার উচ্চতার এই ড্যাম। কিন্ত চলতি ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে ড্যামের পশ্চিমপ্রান্তে সিঁড়ি সহ বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যায়। যার মেরামতি চলছিল। এরমধ্যেই মঙ্গলবার রাতে ড্যামের ৪০ ফিট কংক্রিটের অংশ ভেঙে তলিয়ে যায়। যা নিয়েই রাজ্যের এই কড়া পদক্ষেপ।

