চা শ্রমিকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিলিগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ মে: আজ শিলিগুড়ির ফুলবাড়ির ভিডিওকন মাঠে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বানারহাট ব্লকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতাল, রাজগঞ্জ ব্লকে ৪ কোটি টাকায় ঠাকুরনগরে একটি হাসপাতাল, ধুপগুড়ি হাসপাতালে ২৮ কোটি টাকার উন্নয়ন, ডাবগ্রামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ২৯ কোটি টাকা, এবং জল্পেশে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি, বানেশ্বর, মদনমোহন এবং দেবী চৌধুরানী মন্দিরে উন্নয়নের জন্যও কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।উত্তরবঙ্গ থেকে দীঘা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি ভলভো বাস চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আজকের অনুষ্ঠানে প্রায় ২ লক্ষ মানুষকে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা প্রদান করা হয়।চা শ্রমিকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চা বাগান খুলেছে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রের কোনো ভূমিকা নেই।” তিনি জানান, মজুরি বৃদ্ধি, রেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলা শ্রমিকদের শিশুদের জন্য আলিপুরদুয়ারে ২২টি ও জলপাইগুড়িতে ২৫টি ক্রেশ গড়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “উত্তরবঙ্গে প্রচুর শিল্প হচ্ছে, পাঁচটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ফলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।” শিলিগুড়ি উত্তরায়ণের পাশে ১৮ একর জমিতে ১০ একর জায়গায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার নির্মিত হবে বলেও জানান তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তা নদীর গ্রাসে বিলীন হওয়া চমক ডাংগী ও লালটং গ্রামের মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ডাবগ্রাম এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘তিস্তা পল্লী’ নামে নতুন গ্রাম গড়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “চার বছর ধরে একশ দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। তবু রাজ্য সরকার কাজ বন্ধ করেনি, যারা কাজ করেছে তাদের টাকা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি ম্যাজিশিয়ান নই। কেন্দ্র টাকা না দিলেও আমরা কাজ করছি।” ভুয়ো ভিডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। “ইউটিউব, ফেসবুকের কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না, যাচাই করুন,” বলেন তিনি।সাম্প্রদায়িক শান্তির বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দাঙ্গা চাই না, আমি শান্তি চাই। যারা দাঙ্গা করে, তারা মানুষের ভাল চায় না।” পরিশেষে তিনি নতুন প্রজন্মকে আহ্বান জানান বাংলার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য এবং বলেন, “বাংলাই দেশকে পথ দেখাবে। বাংলা লড়বে।”

