ন্যায়বিচারের দাবি নিয়েই হিলির মানুষ আবারও স্মরণ করছেন অতীত, আর জানাচ্ছেন আহ্বান।
দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা দক্ষিণ দিনাজপুরের ছোট শহর হিলি আজও বহন করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা। এখানকার মানুষ এখনো মনে রেখেছে সেই গোলাগুলি, শরণার্থীদের যাত্রা আর আতঙ্কের রাতগুলো। কাশ্মীরে ২৬ জন ভারতীয় পর্যটকের জঙ্গি হামলায় নিহত হওয়ার খবরে আবারও জেগে উঠেছে পুরনো ক্ষতচিহ্ন।
৭২ বছরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন মুন্সি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু ন্যায়বিচার চাই।” ১৯৭১ সালে তিনি আহত শরণার্থীদের কাঁধে করে এনেছিলেন, লুকিয়েছিলেন ধানের খেতে। তাঁর মতে, যুদ্ধ কেবল ধ্বংস আর দুঃখই বয়ে আনে।
হিলির প্রবীণদের আড্ডা এখনও ঘুরে ফিরে যায় সেই সময়ের দিকে, যখন পুরো এলাকা ছিল জনশূন্য, আর মানুষ শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন আশেপাশের গ্রামে। ৮৪ বছরের হাসান আলী বলেন, “পাকিস্তানি সেনারা শিশু, নারী কাউকেই রেহাই দেয়নি। যুদ্ধের সেই স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে।”
কাশ্মীরের ঘটনা তাদের রাগে ফুঁসিয়ে তুলেছে, কিন্তু প্রত্যক্ষ যুদ্ধ নয়, তাঁরা চান জবাব হোক মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে। ব্যবসায়ী অমূল্য রতন বিশ্বাস বলেন, “প্রতিশোধ চাই, কিন্তু বোমা দিয়ে নয় — চাই ন্যায়বিচার।”
যুদ্ধ নয়, ন্যায়বিচারের দাবি নিয়েই হিলির মানুষ আবারও স্মরণ করছেন অতীত, আর জানাচ্ছেন আহ্বান: “ক্ষমা করেছি, ভুলিনি।”

