চাকরি কান্ড থেকে চোখ ঘোরাতেই তিনি এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী কে আক্রমন সুকান্ত মজুমদারের।
বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ : পার্শ্ববর্তী জেলার চোপড়া থেকে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের জোড়া খুনের প্রধান অভিযুক্ত জিয়াউল শেখ গ্রেফতার হতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ফের মিথ্যেবাদি বলে আক্রমন করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রবিবার বালুরঘাটে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তার বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এই জিয়াউল শেখ কি বি জেপির ছিল না আর এস এস এর ছিল ? কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় জেনে বুঝে বিজেপি ও আর এস এস এর সুনামে কালিমালিপ্ত করতে বলেন বিজেপিও আর এস এস কে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এক কথা বলছেন আর তার পুলিশ অন্য কথা বলছেন। তাহলে এবার মুখ্যমন্ত্রীই বলুন সত্যিটা কে বলছে ?
এছাড়াও আজ তিনি ফের মুখ্যমন্ত্রীকে মুর্শিদাবাদের দাংগা লাগানোর ব্যাপারে দায়ি করে বলেন, যে প্রশ্ন গুলির উত্তর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দিতে পারছেন না, সে গুলি হলো তার ই পুলিশ দপ্তর হাইকোর্টের কাছে জানিয়েছে তাদের ইন্টেলেজিন্সীর কাছে তথ্য ছিল এরকম ঘটনা ঘটবে, আমার কাছে সে সংক্রান্ত কাগজ আছে, তাহলে তারপরেও কেন মমতা ব্যানার্জীর ওই এলাকার সেই ঘটনা দমন করতে পুলিশের শক্তি বৃদ্ধি করেন নি ? পুলিশ আদালতে যে তথ্য দিয়ে বলছে সেখানে ছিল একজন পুলিশের এস আই আর ৪০ জন কনেস্টবল, চার পাচ হাজার মবকে আটকাতে এই পুলিশ ফোর্স কি যথেষ্ট ? পশ্চিমবংগ পুলিশের কি সেই দম আছে ? তার আরও প্রশ্ন, কেন গোয়েন্দা দপ্তরের খবর থাকা সত্বেও ওই মানুষজনদের আটকাতে এক্সট্রা ফোর্স নামান নি, কেন র্যাফ নামান নি এমনকি কেন্দ্রের কাছে ফোর্স চেয়ে পাঠান নি মুখ্যমন্ত্রী ? এ গুলো তিনি জেনে বুঝেই করেন নি বলেই মনে হয়। তার অভিযোগ, কেননা দাংগা লাগালে কার লাভ ? মমতা ব্যান্যার্জীর লাভ, বিজেপির তো ক্ষতি, চাকরি কান্ড থেকে চোখ ঘোরাতেই তিনি এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, দাংগার জুজু দেখিয়ে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট একত্র করে ভোটে ফের জেতার চেষ্টা মরিয়া প্রয়াস চালাবেন, এটা ই তার লক্ষ ছিল।মমতা ব্যানার্জীর কাউন্সিলরকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পাথর ছুড়তে, তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী বড় বড় কথা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী আজ পর্যন্ত ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছে,নেয় নি, তার অভিযোগ ঢিল মারছে তার কাউন্সিলর আর দায় চাপাচ্ছেন বি জেপি আর এস এস এর উপর, মুখ্যমন্ত্রীকি ফাজলামো মারছেন।
উলটে বি এস এফ কে দুর্নাম করতে কুনাল ঘোষকে দিয়ে বলানো হয়েছিল সীমান্তের ওপার থেকে দুষ্কৃতিদের বি এস এফ ঢুকিয়ে দিয়ে কাজ হাসিল করে নাকি ফের সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছে, সুকান্তর প্রশ্ন সীমান্তের বর্ডার কি রেলের লেভেল ক্রসিং গেটের মত, যে ডান্ডা উঠে গেল আবার পড়ে গেল, সেটা কখনই হয় না, মুখ্যমন্ত্রী যে মিথ্যে বাদি তা পুলিশ আদালতে তথ্য দিয়ে প্রমান করছে, আমাদের তা বলতে হবে না।
সুকান্তর পালটা অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী যে ঘটনায় সীমান্ত যোগের উপর দায় চাপিয়ে নিজের দায় পার পেতে চাইছেন তা স্পষ্ট ছিল,কিন্তু চোপড়া থেকে বাবা ছেলের হত্যাকারীকে তার পুলিশ গ্রেফতার করার পর দেখা যাচ্ছে জিয়াউল শেখের বাড়ি তার পার্শ্ববর্তী গ্রামে, তার আরও অভিযোগ এই এই দাংগায় যে স্থানিও রাই যুক্ত ছিলেন তা সামশেরগঞ্জ থেকে পালিয়ে আসা ঘরছাড়াদের জিজ্ঞেস করলেই তারাই তা জানিয়ে এবং চিনিয়ে দেবেন। এক স্কুল শিক্ষক বলেছেন তার ছাত্ররাই তার বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছিল।এরপরেও মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যেবাদি ছাড়া আর কি বলা সম্ভব।
এছাড়াও এদিন ব্রিগ্রেডে বামেদের সভা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন এর আগেও বংগবাসি তাদের ব্রিগ্রেড দেখেছে নিট ফল ছিল জিরো, এবারও ফের বেলুন ফোলানো হচ্ছে কিন্তু ভোট বাক্সে গিয়ে সেই বেলুন ফের চুপসেই থাকবে, বলে মন্তব্য করেন।

