পঞ্জিকার গুরুত্ব এখনও কমেনি, বরং নববর্ষের আগে বালুরঘাট শহরের বেশ কিছু এলাকায় তা নিয়ে দেখা গেল যথেষ্ট উৎসাহ।
সংবাদদাতা, বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ – পয়লা বৈশাখ মানেই বাঙালির ঘরে হালখাতা, মিষ্টিমুখ আর সঙ্গে অবশ্যই একটি নতুন পঞ্জিকা। গোলাপি মলাটে মোড়া মাঝারি মাপের এই বইটির সঙ্গে বাঙালির জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নতুন বছরের প্রথম দিনে বহু মানুষই পঞ্জিকার পাতা উলটে দেখে নেন বাৎসরিক রাশিফল, পুজোর নির্ঘণ্ট এবং নানা শুভ ক্ষণ। যদিও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে সময়, ইন্টারনেটেই আজকাল এক ক্লিকে পাওয়া যায় যাবতীয় তথ্য। তবু পঞ্জিকার গুরুত্ব এখনও কমেনি, বরং নববর্ষের আগে বালুরঘাট শহরের বেশ কিছু এলাকায় তা নিয়ে দেখা গেল যথেষ্ট উৎসাহ।
ডানলপ মোড়, কাছারি রোড এবং জোড়া ব্রিজ এলাকার দশকর্মা ভাণ্ডারগুলিতে পঞ্জিকা কিনতে ভিড় করছেন শহরবাসী। নববর্ষ আসতে এখনও কিছুদিন বাকি, তার আগেই দোকানে দোকানে চলছে পঞ্জিকা কেনার ধুম। জোড়া ব্রিজ এলাকায় এক ক্রেতা জানালেন, “হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলেও পঞ্জিকার জুড়ি মেলা ভার।” পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর এক বাসিন্দা বললেন, “মোবাইলে শুভ দিনক্ষণ দেখে ঠিক ভরসা পাই না। একবার পঞ্জিকা না দেখা অবধি যেন মন সায় দেয় না।”
একাদশীর তারিখ, অম্বুবাচি, দুর্গাপুজোর সময়, তিথি অনুযায়ী শুভক্ষণ—এই সবকিছুর জন্য এখনও শহরবাসীর ভরসা একটাই, পঞ্জিকা। দোকানদারদের কথায়, নববর্ষ আসার আগে থেকেই দোকানে পঞ্জিকার খোঁজ শুরু হয়ে যায়। এক দশকর্মা সামগ্রীর দোকানদার জানান, “এক একটি বান্ডিলে ৩০টি করে পঞ্জিকা থাকে। ছোট ছোট বইয়ের দোকানদাররা ২০-৩০টি করে কিনে নিয়ে যান। স্টক শেষ হলে আবার আনতে হয়।” তাঁদের মতে, পঞ্জিকার চাহিদা কোনওদিনই কমবে না।
যদিও এখন মোবাইল অ্যাপেই দেখা যায় পঞ্জিকা, তবু বাড়িতে একটি পঞ্জিকা থাকা মানেই যেন পুজোপাঠে সুবিধা। শহরের এক বধূ বলেন, “মা-বাবার কাছ থেকে ধৈর্য ধরে পঞ্জিকা দেখা শিখেছিলাম। কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েদের কাছে সেটা সময় নষ্ট মনে হয়।” পেশায় পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী জানালেন, “আমি কখনও ইন্টারনেট থেকে বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা উপনয়নের তিথি দেখি না। পঞ্জিকাই সবচেয়ে ভালো। এর কোনও বিকল্প নেই।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিজিটাল যুগে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও পঞ্জিকার প্রতি আস্থা আজও অটুট। নববর্ষের আগে বালুরঘাট শহরের দোকানগুলিতে পঞ্জিকার চাহিদা সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে।

