চন্দ্রকোণারোড গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের এনএসএস ইউনিট ১ কর্তৃক আয়োজিত মানবসেবার মহান কর্মসূচি প্রত্যেকের কাছেই হয়ে উঠেছে প্রশংসার বিষয় ও অনুপ্রেরণার আধার।
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণারোড গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের এনএসএস ইউনিট ১ এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হলো একটি একদিন ব্যাপী রক্তদান শিবির। বুধবার এই শিবিরে রক্ত সংগ্রহের ভার বহন করেছেন শালবনী সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। একইসাথে মহাবিদ্যালয়ের এনএসএস ইউনিট ১ এর প্রোগ্রাম অফিসার ড: অজয় কুমার মন্ডল মহাশয় আজকের শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্বদানের মাধ্যমে সমগ্র শিবিরটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
আজকের এই শিবিরে মহাবিদ্যালয়ের এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ ছাত্রছাত্রী , বিভিন্ন বিভাগীয় অধ্যাপক অধ্যাপিকারাও এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে এইদিন মহাবিদ্যালয়ের দরজা খুলে দেওয়া হয় রক্তদানে ইচ্ছুক সকল ব্যক্তিদের জন্য। ফলে মহাবিদ্যালয়ের অংশ নন এরকম অনেক মানুষই এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অনেকের অভিভাবকদেরও আজ এই শিবিরে অংশ নিতে দেখা যায়। মোট উনচল্লিশ জন আজ এই শিবিরে রক্তদানে এগিয়ে আসেন যাদের মধ্যে তিনজন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক, এগারো জন বহিরাগত রক্তদাতা এবং পঁচিশ জন ছাত্রছাত্রী। রক্তদানে অসামর্থ অনেক ছাত্রছাত্রী সরাসরি রক্তদানে অংশ নিতে না পারলেও তারা পরিচালনা ও আয়োজনের বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে আজকের এই শিবিরের এক অবিচ্ছেদ্য ও অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
আজকের এই শিবির হয়ে উঠেছে অনেক ছাত্রছাত্রীদের কাছে জীবনে প্রথমবার রক্ত দেওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আজকের শিবিরে আগত অধিকাংশ মানুষজনের কাছে আজকের আয়োজন যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে হয়ে উঠেছে রক্তদানের মাধ্যমে মানবসেবায় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার এক আধার। রক্তদান শেষে প্রত্যেক রক্তদাতার জন্য বিশ্রামের জায়গার পাশাপাশি ছিল ও.আর.এস. মেশানো জলের আয়োজন। রক্তদান শেষে প্রত্যেক রক্তদাতাকে একটি গোলাপ ফুল ও একটি রক্তদানের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়াও ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ, রক্তদাতাগণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য শিবির শেষে মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করা হয়।
সর্বোপরি , আজ চন্দ্রকোণারোড গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের এনএসএস ইউনিট ১ কর্তৃক আয়োজিত মানবসেবার এই মহান কর্মসূচি প্রত্যেকের কাছেই হয়ে উঠেছে প্রশংসার বিষয় ও অনুপ্রেরণার আধার।

