জয়মাল্য দেশমুখ : পুরী-র সমুদ্রে নীল জলরাশিতে স্নান করতে করতে দেখা যায়,দূর থেকে ভেসে আসছে জেলেদের নৌকা।সমুদ্রের উত্তাল স্রোতের তালে তালে দুলতে থাকা নৌকাগুলো চোখের নিমেশেই মিলিয়ে যায় দূর দিগন্তে।

আপনার যদি ইচ্ছে হয় স্রোতের সাথে তাল মেলাতে,চলে আসুন চিলকা-য়।ভুবনেশ্বর ও পুরী থেকে গাড়িতে বা ট্রেনে করে আসতে হবে বালুগাঁও হয়ে চিলকা হ্রদে।
এখানে রয়েছে মোটর বোটে করে ঘোরার ব্যবস্থা।১৬ কিলোমিটার দূরে কালিজাই দীপে বোটে করে যাওয়ার সময় সমুদ্রের বাঁধ ভাঙা ঢেউ-এর মুখোমুখি হবেন।ঢেউ-এর বিপরীতে অসাধারন দক্ষতায় আপনার বোট সবুজ জল কেটে এগিয়ে চলবে।জল ছিঁটে আপনার গায়ে লাগলে ভয় পাবেন না প্রতিটা বোটেই আছে লাইফ-সেভিং জ্যাকেট।৪০/৫০ মিনিট তীব্র ঢেউয়ের ওপর দিয়ে যাওয়ার পর আপনি পৌঁছবেন কালিজাই দীপে।এখানে রয়েছে কালীমন্দির,চাইলে পুজে-ও দিতে পারেন।এই জায়গায় হাওয়ায় আপনাকে উড়িয়ে নিয়ে চলে যেতে পারে।

মাঝখানে দাঁড়িয়ে দীগন্তবিস্তৃত জলরাশি দেখতে পাবেন,যার শেষ নেই মনে হবে কিন্তু এটি প্রাকৃতিক ভাবে ঘেরা একটি হ্রদ।সমুদ্রের জল এসে এখানে মেশে।১৫/২০ মিনিট কালিজাই মন্দিরে থাকার পর আবার বোটে করে সমুদ্রের স্রোতে ভাসতে ভাসতে পাড়ের দিকে চলে আসবেন।আসতে যেতে দেখতে পাবেন মাছধরা নৌকাগুলি কি করে এই ভয়ানক ঢেউ-এর মধ্যেই ভেসে ভেসে মাছ ধরছে।


এছাড়াও আপনি চাইলে ঠিক যে জায়গা থেকে সমুদ্রের জল চিলকায় ঢোকে সেখানেও বোটে করে যেতে পারেন।দুরত্ব হবে ৫৪ কিলোমিটার।সমুদ্রের নীল জলরাশি দেখে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।সময় ভালো থাকলে চোখে পড়ে যেতে পারে ডলফিন,কারন সরকার এখানে একশতাধীক ডলফিন ছেড়েছে।এখানকার মৎসজীবি মানুষের এটাই জীবিকার রাস্তা।এই চিলকার জলে অসাধারন চিংড়ি মাছ হয়,মনে হলে কিনতেও পারেন।সকালে এসে সারাদিন বোটিং করে আবার বিকেলে পুরী বা ভুবনেশ্বর ফিরে আসতে পারেন।সমুদ্র আপনার প্রিয় হলে,বোটে করে সমুদ্রে ঘোরার শখ থাকলে চিলকা আপনার অসাধারন লাগবে।

Leave a Reply