বাংলা নিউজ ২৪x৭ : আজ 14 দিনে পড়ল স্কুল সার্ভিস কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের অনশন। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি সরকারের তরফ থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত না চাকরির আশ্বাস বা কোন লিখিত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া যায় ততদিন পর্যন্ত তাদের এই অনশন চলবে।

গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর সঙ্গে দেখা করেন চাকরি প্রার্থীদের কিছু ছাত্রছাত্রী , কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় সেরকম কোনো আসা বা ভরসা দিতে পারেনি বলে জানায় ছাত্রছাত্রীরা। তারা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এনেছে ,ছাত্রছাত্রীরা বলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাদের এই অনশন আন্দোলন কে ঠাট্টা করে বলেছেন , মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো 26 দিন অনশন করেছিলেন তো তোমরাও ইচ্ছামত অনশন করতে পারো , কোনো অসুবিধে নেই। বৈঠকে ছাত্রছাত্রীরা তাদের দাবির সপক্ষে কিছু প্রমাণ শিক্ষামন্ত্রীকে দেখাতে শিক্ষা মন্ত্রী তাদের এই প্রমাণ কে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন – যে আপনারা এতকিছু জানলেন কি করে ? আর এসব কোথা থেকে পেলেন ?

অতএব এক কথায় বলা যায় যে সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কারভাবে তাদের এই অনশন কে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তাদের এই অনশন তোলার ক্ষেত্রেও সরকারের তরফ থেকে কোন অনুরোধ করা হচ্ছে না। আজ 14 দিন যাবত কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে অনশন চালাচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনে চাকরি প্রার্থীরা। এরকম একজন চাকরিপ্রার্থী শর্মিলা মন্ডল বাড়ি বনগাঁ, তিনি বাংলা নিউজ কে জানান যে সরকারের তরফ থেকে যদি কোন প্রকার লিখিত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া যায় তাহলে এই অনশন মঞ্চ থেকে আমাদের লাশ নিয়ে যেতে হবে সরকারকে।

অনশন শুরু করেছিল প্রায় 400 জন এর কাছাকাছি মাঝখানে অনশনরত অবস্থায় প্রায় 60 জন এর কাছাকাছি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদেরকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আপাতত অনশন চলছে। আজ বুধবার অনশন মঞ্চে এসেছিলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ -তিনি চাকরি প্রার্থীদের সাথে কথা বলে সরকারের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ ব্যাক্ত করে বলেন – এই সরকার মানুষ না।

চাকরি পদপ্রার্থীরা জানান – সরকার নিরপেক্ষভাবে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ। তারা অভিযোগ আনেন সদ্য তৃণমূলে জয়েন্ট করা পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী ,যার নাম স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্যানেল লিস্টে ছিল না সেখানে নাম ছিল ববিতা বর্মন নামে এক চাকরিপ্রার্থী এর নাম। সেই নামের আগে রাতারাতি অঙ্কিতা অধিকারী নাম চলে এল এবং তিনি চাকরিও করছে। যার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতার অভিযোগ আনে তারা।

সরকারের তরফ থেকে কোনো হেলদোল বা কোন কার্যকলাপ চোখে পড়ছে না এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মনে এই ধারণা এসে গেছে যে সরকার তাদের জন্য কিছু করবেই না। আজ 14 দিন কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রকার অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে কেটে চলেছে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন। সরকার এদের জন্য এখন কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার

Leave a Reply