হস্তশিল্পের টানে পুরী-র কাছে রঘুরাজপুর শিল্পী গ্রাম

0
90

জয়মাল্য দেশমুখ : শুধু সমুদ্র সৈকত নয় অনেক মানুষ পুরীতে আসেন কোনারক,জগন্নাথ মন্দির,উদয়গিড়ি,খন্ডগিড়ি-র শৈল্পীক সৌন্দর্য অনুভব করার জন্য।সেই সমস্ত মানুষের জন্য এক অসামান্য ঠিকানা পুরী-র কাছেই রঘুরাজপুর শিল্পীগ্রাম।


ভারতের লোকশিল্প বা হস্তশিল্প সম্পর্কে টান থাকলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে হ্যারিটেজ রঘুরাজপুর শিল্পী গ্রামে।পুরীর সমুদ্র সৈকতের সাথে সাথে যে অনন্য শিল্পের নজির রঘুরাজপুরে আছে,তা দেখেলে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।পুরী থেকে সড়ক পথে ১৫ কিলোমিটার গেলেই পাবেন এই অসাধারন গ্রাম।পুরী থেকে গাড়ি বা অটো ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারবেন।ভার্গবি নদীর উপকুলে এই গ্রামের ১৪০ টি পরিবারের, প্রত্যেকটি সদস্যই হলেন শিল্পী।


আপনি গিয়ে দেখবেন,কেউ বানাচ্ছে নারকেলের ছোবড়া দিয়ে বিভিন্ন পুতুল,কেউ বা পটচিত্র।কেউ তালপাতার ওপরে সুক্ষ্ম তুলির টানে ফুটিয়ে তুলছেন আদিবাসি সংস্কৃতি বা উড়িশ্যার লোকশিল্প।এছাড়াও আছে কাগজের মন্ড দিয়ে তৈরী পুতুল বা মুখোশ,তশোর-এর ওপর আঁকা চিত্র,কাঠ ও পাথরে খোদাই করা মূর্তি।এই গ্রামের মূল আকর্ষন হল এখানে ১৪০ টি পরিবারের মোট ৪২৭ জন পুরুষ ও ৩৩৩ জন মহিলাই এইসব শৈল্পিক কাজের সাথে যুক্ত।এই গ্রামে যে শুধু হস্তশিল্পীরা আছেন তা নয়,আছেন উড়িশ্যা-র বিখ্যাত গোতিপোয়া নৃত্যের নামকরা শিল্পীরাও।আপনি বিনা বাধায় গোটা গ্রামে ঘুরতে পারবেন আর আপনার পছন্দ মতো শিল্পের নিদর্ষন কিনতে পারবেন।


প্রত্যেক শিল্পী-র বাড়ি লাগোয়াই একটা করে শিল্প প্রদর্শনীর ঘর আছে।প্রত্যেকটি পরিবার আপনাকে আগ্রহের সাথে আপানাকে তাদের বানানো সামগ্রী দেখাবে।আপনাকে সাহায্য করার জন্য আছেন গ্রামের প্রতিটি মানুষ।গোতিপোয়া নৃত্যের শিল্পী দেরও নির্দিষ্ট বাড়ি আছে,সেখানে গিয়ে আপনি তাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।প্রতিটি বাড়ির দরজায় দরজায় আপনি ঘুরতে পারবেন আর দেখতে পাবেন অনন্য হস্তশিল্পের নজির।

গ্রামের মাঝখানেই দেখা মিলবে উড়িশ্যার বিভিন্ন দেব-দেবী-র মন্দিরের,যার দেওয়ালে রয়েছে মাটি,পাথর দিয়ে তৈরী হস্তশিল্প।শিল্পীরা জানালেন একটি তশোরের কাপড়ে ছবি আঁকতে প্রায় ৫ দিন সময় লেগে যায়।


এই শিল্পী গ্রামে ৩ জন শিল্পী ভারত সরকারের পদ্মসন্মান পেয়েছেন।ন্যাশানাল এওয়ার্ড সার্টিফিকেট পেয়েছেন ১২ জন।এছাড়াও ১৩ জন গোতিপোয়া শিল্পীগুরু আছেন গ্রামে।আপনি চাইলে শুদুমাত্র এই গ্রামে থাকতেও পারেন,তার জন্য রয়েছে গেস্ট হাউসের ব্যবস্থা।


শিল্পের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আর এই অসাধারন হস্তশিল্পীদের লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনাকে আসতেই হবে রঘুরাজপুর শিল্পী গ্রামে।পটচিত্র,তালপাতার আঁকা চিত্র,গাঞ্জাপ্পা কার্ড,তশোরে আঁকা চিত্র পছন্দ হলপ সাধ্যমতো সংগ্রহ করে এই শিল্পীদের উৎসাহিত করবেন।

Leave a Reply