বাংলা নিউজ ওয়েব ডেস্ক : মেট্রো ডেয়ারি কাণ্ডে শেষপর্যন্ত মমতা ব্যানার্জি সরকারকে আদালতে টেনে নিয়ে গেলেন অধীর চৌধুরী। মাদার ডেয়ারি একটি আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের সরকারি শেয়ার বিক্রি করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। সেই সব নিয়মের তোয়াক্কা না করে কেন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের সব শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস নেতা অধীর_চৌধুরী। আজ কলকাতা হাইকোর্টের দেবাশীষ করগুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি গৃহীত হয়েছে।

এই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, সরকারকে শেয়ার বিক্রি করতে হলে দুটি পদ্ধতি মেনে সেই কাজ করতে হয়। একটি হলো পাবলিক ইস্যু অন্যটি হলো সুইস চ্যালেঞ্জ মেথড। পাবলিক ইস্যুর মাধ্যমে সরকারকে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হয়, সরকার এত শতাংশ শেয়ার বাজারে বিক্রি করতে চায়, সেই অনুযায়ী শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করতে হয়।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো, কোনও বেসরকারি সংস্থা যদি সরকারি শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং সরকার যদি বিক্রিতে আগ্রহী হয় , সেক্ষেত্রে ওই বেসরকারি সংস্থা শেয়ারের যে মূল্য ঠিক করবে সেটাকে বেস প্রাইস হিসাবে রেখে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। যে সংস্থা বেস প্রাইসের থেকে বেশি টাকা দেবে সেই সংস্থাকেই ওই শেয়ার বিক্রি করা হবে।

এক্ষেত্রে মমতা সরকার কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করে , মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি সিদ্ধান্ত পাশ করিয়ে নেয়। সিদ্ধান্তটি হলো, সরকার তার ৪৭ শতাংশ শেয়ার কেভেন্টার্স নামক একটি কোম্পানিকে বিক্রি করে দিচ্ছে। বিক্রি করা হলো মাত্র ৮৪.৫ কোটি টাকায়।

বিক্রি হলো মমতা ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী তথা কেভেন্টার্স মালিক মায়াঙ্ক জালানের কাছে। সেই জালান আবার সরকারি শেয়ার কেনার কিছুদিন পরেই , সিঙ্গাপুরের এক কোম্পানির কাছে মাত্র ১৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিল ১৭০ কোটি টাকা দিয়ে।

অর্থাৎ কেভেন্টার্স যে মূল্যে তার শেয়ার বিক্রি করলো, সেই একই মূল্যে সরকার যদি তার শেয়ার বিক্রি করতো তাহলে সরকারি কোষাগারে আসতো ৫৩২.৫০ কোটি টাকা। কিন্তু রাজ্য সরকার বিক্রি করলো মাত্র ৮৪ কোটি টাকায়। কেন? এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। সেই প্রশ তুলেই আদালতে গেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, সরকারি তহবিলে যে টাকাটা জমা পড়লো না, সেটা কার টেবিলের তলা দিয়ে কোথায় গিয়ে পৌঁছলো, রাজ্যের মানুষের তা জানার অধিকার আছে।

Leave a Reply