সার্জিকাল স্ট্রাইক এর প্রমান দিন – কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল

0
127

বাংলানিউজ ২৪x ৭ : 14 ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামা সিআরপিএফ আত্মঘাতী হামলায় 42 জন শহীদের প্রাণ গিয়েছে। তার বদলা হিসাবে 26 শে ফেব্রুয়ারি বায়ুসেনা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে দাবি করা হয়েছে যে ,পাকিস্তানের বালাকোট এ যে জৈশ ই মোহাম্মদের জঙ্গী গুলো ছিল তা সম্পূর্ণরূপে ধুলিস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। এবং বায়ুসেনার সাফল্যকে কেন্দ্রীয় সরকার তার নিজের সাফল্য হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে রাস্তায় রাস্তায় পোস্ট দিয়েছে। কিন্তু এই সার্জিকাল স্ট্রাইক এর সত্যতা নিয়ে প্রথম থেকেই দেশী ও বিদেশী মিডিয়াতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর ফলে মৃত জঙ্গিদের সংখ্যা নিয়েও ধন্দ প্রকাশ করেছে অনেকে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলো। যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ,দা গার্জিয়ান ,গালফ নিউজ বিবিসি ওয়ার্ল্ড।,তারা প্রত্যেকে তাদের রিপোর্টে দাবি করেছে যে ভারতীয় সেনাবাহিনী এসেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা জঙ্গি ঘাঁটিতে লক্ষ্য ঠিক করতে ব্যর্থ হয় এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর ফলে পাকিস্তানের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। শুধু মাত্র কটা গাছ উপড়ে গিয়েছে দুটো তিনটে বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে ও একজন আহত হয়েছে বলে খবর।

আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ


কিন্তু ভারতবর্ষের দেশীয় মিডিয়াতে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলা হয়েছে ৩০০/৩৫০ /৪০০ জন জঙ্গি এই সারজিকাল স্টাইক এর ফলে মারা গিয়েছে, যদিও সেনাবাহিনীর তরফ থেকে মৃত জঙ্গির সংখ্যা নিয়ে কোন বক্তব্য আসেনি ,শুধু এটুকু বলা হয়েছে মৃত জঙ্গি সংখ্যা ফ্যাক্টর নয় ফ্যাক্টর ঠিকঠাক লক্ষ অনুযায়ী বোমা ফেলা হয়েছে কিনা সেটাই।
ওদিকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ একটি জনসভায় বলেন যে ভারতীয় বায়ুসেনা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর ফলে 250 জন জঙ্গীকে শেষ করেছে এখন প্রশ্ন হল ভারতীয় বায়ুসেনা সেখান সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সেখানে আড়াইশো জন জন মৃত্যুর সংখ্যা কোথা থেকে পেলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন -আমাদের জানা দরকার মোট কতজন মৃত্যু হয়েছে এবং আদৌ মৃত্যু হয়েছে কিনা। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে হতাহতের কোনো কোন খবর নেই অতএব ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জঙ্গী ঘাটে গুলিকে সমস্ত ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে। ওদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন -বালাকোটের যে জায়গায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে সেই এলাকা তে কোন জঙ্গি ঘাঁটি ছিল না এবং বালাকোটের ওই অঞ্চল 1 বছর আগে ভূমিকম্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ,সেখানে আন্তর্জাতিক সাহায্য নিয়ে আস্তে আস্তে এলাকাটায় এলাকাটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে ,সেখানে আন্তর্জাতিক মানুষের আনাগোনা আছে ফলে সেখানে জঙ্গি ঘাঁটি স্বভাবতই তৈরি হতে পারে না। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কপিল সিব্বল বলেন – সরকারের উচিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর কোন প্রমান দেওয়া। আজ বিজেপি আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন যে ভারত সরকারের কাছে কংগ্রেসের নেতারা যেভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর প্রমাণ যাচ্ছে তাতে কংগ্রেসের নেতাদের নিচু মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। যদি ও আজ রবিশঙ্কর প্রসাদ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এ হতাহতের সংখ্যার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাইনি। এই বক্তব্যের নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক মন্তব্য করা হচ্ছে ,তারা বলছে আমেরিকা যখন পাকিস্তানে ঢুকে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল তখন আমেরিকার জনগণ বারাক ওবামার কাছে লাদেন হত্যার প্রমাণ চাই নি কিন্তু একটা জিনিস আমাদের মনে রাখা উচিত বারাক অবামা কিন্তু সংসদে বিরোধীদের লাদেন হত্যার সমস্ত প্রমান দেখিয়েছিল , তার সূত্র ধরে কংগ্রেস নেতা চিদাম্বারাম বলেন ভারতের উচিত বিরোধীদের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর প্রমাণ দেওয়া

বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি


আজ প্রধানমন্ত্রী বলেন ,বায়ুসেনার কাছে প্রমাণ চেয়েছে সেনা অফিসারদের মানসিকতা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। প্রশ্ন হচ্ছে বায়ুসেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে চাপান-উতোর এর মধ্যে ভোটের প্রচার শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি সেনাদের পোশাকে ভোট চাইতে বেরিয়ে পড়েছে। যেখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কে বড় করে দেখিয়ে লোকসভা ভোটে বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। সেখানে বিরোধীরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর প্রমাণ চাইতেই পারে
এক্ষেত্রে প্রশ্ন করলেই বিজেপি নেতারা দেশদ্রোহী তকমা দিচ্ছে বিরোধীদের। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী সারজিকাল স্টাইক করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল এবং সেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর ফলে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে একটা ভালো ফল করেছিল বিজেপি
আবার লোকসভা ভোটের আগেই যুদ্ধের জিগির তুলে বাজিমাত করবে কি বিজেপি। উঠছে প্রশ্ন

Leave a Reply