যাদবপুর লোকসভার ছকভাঙা লড়াই

0
110

জয়মাল্য দেশমুখ : যাদবপুর,নামটা সারা বছরই সংবাদের শিরোনামে থাকে।আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও রাজনৈতিক মহলের অন্যতম চর্চার কেন্দ্র যাদবপুর।গতবারের সাংসদ অধ্যাপক সুগত বসু এবার আর ভোটের ময়দানে নেই,তার বদলে তৃণমূলের চমক অভিনেত্রি মিমি চক্রবর্তী।রাজ্য-রাজনীতিতে ২০১১ সালের পরিবর্তনের আগেই ২০০৯ সালে তীব্র সিপিআইএম বিরোধী আন্দোলনের ঝড়ে,যাদবপুরে পরিবর্তন হয়।তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রথম বার ভোটে লড়েই জেতেন গায়ক কবীর সুমন।
এবারের নির্বাচনে তৃনমূল-এর প্রার্থী তালিকায় মিমি চক্রবর্তী-র নাম দেখে অনেকেই অবাক হন।পেশায় অভিনেত্রী হওয়ায় কু-রুচিকর আক্রমনের সন্মুখীন হতে হয় মিমি-কে।সব বিরূপ প্রতিক্রিয়া উড়িয়ে দিয়ে মিমি নেমে পরেছেন ভোট প্রচারে।সব এলাকাতেই তৃণমূলের দেওয়াল লেখা প্রায় শেষ।বেশ কিছু কর্মী সভাও সেরেছেন মিমি চক্রবর্তী ইতিমধ্যে।মিমি-র রাস্তায় নেমে প্রচার শুরু সময়ের অপেক্ষা বলে অনেকের মত।
উল্টোদিকে,বাম হেভিওয়েট প্রার্থী আইনজীবি বিকাশ ভট্টচার্য।আইনজীবী,কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক,বিভিন্ন আন্দোলনের সহযোগী,বহুবিধ পরিচয় এই প্রার্থী-র।যাদবপুর বিধানসভা বর্তমানে সিপিআইএম-এর দখলে,তাই কিছুটা এগিয়ে আছেন তিনি।প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষনা হওয়ার পর থেকেই রাস্তায় নেমে ভোট চাইতে শুরু করে দিয়েছেন বিকাশ।এই প্রচারের ক্ষেত্রে অন্তত বিকাশ-কে এগিয়ে রাখছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হওয়ার দাবীদার বিজেপি,এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে অধ্যাপক অনুপম হাজরা-কে।একদা তৃণমূলের সাংসদ শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক অনুপম এক অর্থে যাদবপুরে নতুন।তৃণমূল থেকে বহিস্কার হয়ে,বিজেপিতে যোগ দিয়ে আজ তিনি প্রার্থী।যাদবপুরে-র বিস্তীর্ণ উদবাস্তু অঞ্চলে বিজেপি-র কিছুটা শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা।সেই শক্তিতে ভড় করে অনুপম কতটা ভোট নিজের দিকে টানতে পারেন,তাই এখন দেখার।
কংগ্রেস এখনও এই কেন্দ্রে প্রার্থী না দেওয়ায় মূলত তৃ-মুখী লড়াই-এট সম্ভাবনা রয়েছে।এই লড়াইয়ে এলাকার মানুষের মন কোন প্রার্থী জয় করতে পারেন তার উত্তর পাওয়া যাবে ২৩-মে।

Leave a Reply