২০১১ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে ৩৪ বছরের বাম সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পিছনে রহস্য অনেক ছিল। সিপিএম নেতারা বার বার অভিযোগ করেছিল যে তৃণমূল বিপুল পরিমান টাকা ছড়িয়ে ভোট কিনেছে। সেই টাকার উৎস কি ছিল ? সে প্রশ্ন সময়ের স্রোতে হারিয়ে গিয়েছে। বাম সরকারের পতনের পর সিপিএম নেতা গৌতম দেব জোর গলায় বলেছিলো যে রাজ্যের চিটফান্ডের টাকায় তৃণমূলের এই বাড়বাড়ন্ত।


আর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক চিটফাণ্ডের অফিসে তালা ঝুলেছিল। চিটফান্ডের রমরমা চলেছিল সিপিএম আমলে কিন্তু বাম সরকার আইন করতে চেয়েছিলো এই চিটফান্ড গুলোকে সেবি বা ইডির মাধ্যমে একটা সুষ্ঠ পথে পরিচালনার জন্য। আর সেটাই হলো সিপিএমের কাল। চিটফান্ড কোম্পানি গুলো বিরূপ হলো বামফ্রন্ট সরকারের উপরে। আর তাদেরকে ইন্ধন যোগালো তৃণমূল। এগিয়ে এলো সারদা


সুদীপ্ত সেন বলেছিলেন – মমতা ব্যানার্জি কে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান। এবং তার জন্য যা দরকার তা করা হবে। প্রাক্তন পরবহনমন্ত্রী মদন মিত্র ছিল সরদার এজেন্ট ইউনিয়নের সভাপতি। ব্র্যান্ড আম্বাসাডর হলেন – শতাব্দী রায়। সারদা আর তৃণমূল সরকারের সখ্যতা বেড়ে গেলো। সারদা পরিচালিত কলম পত্রিকা উদ্বোধনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। সারদা পরিচালিত ইলেকট্রনিক মিডিয়া “চ্যানেল ১০” এ দিন রাত তৃণমূল সরকারের প্রমোশন চালাতো তৃণমূল সংসদ কুনাল ঘোষ। রাজ্যের সরকারি লাইব্রেরিতে সারদা পরিচালিত কলম পত্রিকা রাখতে হবে বলে নির্দেশিকা জারি করেছিল তৃণমূল সরকার।


সিবিআই জানতে পেরেছিলো দার্জিলিঙের ডেলোতে তৃণমূল সরকার ও সারদা মালিক সুদীপ্ত সেনের একটা চুক্তি হয়েছিল। তৃণমূল সরকারকে প্রমোট করার জন্য সারদার এই চুক্তি বলে মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। ডেলোর বৈঠক প্রথম সামনে এনেছিল – সিপিএম নেতা গৌতম দেব। তিনি প্রমান করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।


আসল কথা হলো সরদার সঙ্গে তৃণমূল সরকারের সখ্যতা যে ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠলো সারদা কোম্পানির ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার পর। হাজার হাজার গরিব মানুষের টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে। রাজ্য সরকার আসরে নামলেন। এরেস্ট করা হলো সারদা মালিক সুদীপ সেন ও সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায় কে। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বিবৃতি দিয়ে জানালেন যে – যা গ্যাছে তা গ্যাছে। মাদক দ্রব্যের উপর বাড়তি ট্যাক্স বসিয়ে পয়সা ফেরত করা হবে। তৈরি হলে শ্যামল সেন কমিশন। টাকা ফেরতের এপ্লিকেশন পড়লো লক্ষ্ লক্ষ্। তদন্তের জন্য গঠিত হলো সিট্।

বিরোধীরা বার বার অভিযোগ করলেন তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে। তৃণমূল সরকার প্রশাসন কে কাজে লাগিয়ে একের পর এক তথ্য প্রমান লোপাট করছে বলে বিরোধীরা সরব হলো।
প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান সুপ্রিম কোর্ট এ আর্জি জানান যে সারদা তদন্ত রাজ্য সরকারের হাতে ছাড়া ঠিক হবেনা। কেননা রাজ্যের বহু নেতা মন্ত্রী এখানে জড়িত। যেহেতু রাজ্যের বাইরেও সারদার শিকড় বিস্তৃত ছিল তাই সিবিআই এর হাতে তদন্তভার তুলে দেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট।


এই তদন্ত ভার যাতে সিবিআই না পান তার জন্য রাজ্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল। সে কথা কারো অজানা নয়। পরে সিবিআই দাবি করেন – তদন্ত ফাইল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছেনা। কিন্তু কেন এই অসহযোগিতা ? গরিব মানুষের টাকা যারা মেরেছেন তাদের যেকোনো উপায়ে শাস্তি দিয়ে টাকা ফেরানোর বন্দোবস্ত করা রাজ্য সরকারের নৈতিক দায়িত্বর মধ্যে পড়ে। কিন্তু রাজ্য সরকারের তেমন কোনো মানবিক পদক্ষেপ চোখে পারেনি। বরং উল্টে সারদা তদন্ত যাতে সিবিআই এর হাতে না যায় তার জন্য রাজ্য ৭ কোটি টাকা খরচ করেছেন।


এখন সিবিআই এর থেকে পুলিশ কমিশনার কে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসেছে। রাজ্য জুড়ে মিটিং মিছিল। একজন পাবলিক সার্ভেন্ট আর এক পাবলিক সার্ভেন্ট কে তদন্তের খাতিরে ডাকতেই পারেন। সেখানে রাজ্য সরকারের কি বলার আছে বুঝিনা। তাহলে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত ? উঠছে প্রশ্ন

Leave a Reply