নিজস্ব চিত্র

গত ৩ রা ফেব্রুয়ারী ছিল বামফ্রন্টের ব্রিগেড সমাবেশ। এই সমাবেশ ছিল বামফ্রন্টের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। বাম সরকারের পতনের ৩ বছর পরে এই ব্রিগেড সমাবেশ। লোক জমায়েত করার অবস্থা ও ছিল প্রতিকূল। সিপিএম বরাবর এ অভিযোগ করেছে যে শাসক দল তাদের কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। ব্রিগেড এ গেলে তাদের মারধর করা হবে। সরকারের সুবিধা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। তা সত্ত্বেও এতো বড়ো জমায়েত হলো কি ভাবে ? কম পক্ষে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করেছিল বামফ্রন্ট। বুড়ুল সাতগাছিয়া লোকাল কমিটির পক্ষে কমরেড আব্দুর রহমান খান বলেন – ৬৭ সাল থেকে সিপিএম পার্টি করি। সেই সময়ের পরিস্থিতি থেকে এখন আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি। একমাস আগে থেকে বাস এর বুকিং করা ছিল। কিন্তু ব্রিগেড এর আগের দিন বাস মালিক জানান বাস দেওয়া যাবেনা। আমাদের উপর চাপ আছে। বাস দিলে রুট পারমিট বাতিল করে দেবে। বাস পুড়িয়ে দেওয়া হবে। তখন আমরা আমাদের প্ল্যান বদল করি। কিছু কিছু লোক চালু গাড়িতে নিজেরাই টিকিট কেটে হাজির হই।

নিজস্ব চিত্র

প্রথম থেকেই পুরো ব্রিগেড ছিল আড়ম্বরহীন। কোনো চমক ছিলনা। চমক ছিল ভাষণের। প্রথমেই বিমান বাবু বলেন – কমরেড হিম্মত আছে তো ? বামফ্রন্ট করতে গেলে হিম্মত লাগে। ব্রিগেড জন সমুদ্র দেখে খুশি ছিল নেতারাও। নেতাদের পোশাক ছিল সাধারণ। মাঠে নেমে খেটেছে বলতে হয়।
দেখা গেলো প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাসগুপ্ত কে। স্টেজের পাশে সবার মাঝে বসে আছে। চুপ চাপ ভাষণ শুনছে।

নিজস্ব চিত্র

এসেছিলেন সীতারাম ইয়াচুরি , তার ভাষণে ও উঠে এলো চিটফান্ড এর কথা। খেটে খাওয়া মানুষের কথা। কৃষকদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কথা।
প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা বুঝতে পেরেছিলো বাম নেতৃত্ব। তাই ব্রিগেড এর ৪ দিন আগে থেকে কিছু কিছু করে লোক কলকাতা নিয়ে এসেছিলো তারা। যেটা প্রশাসন টের পাইনি।

নিজস্ব চিত্র

কমরেড সূর্যকান্ত মিশ্র ভাষণে বলেন – বিজেপি তৃণমূল একই ধরণের রাজনীতি করছেন। নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে। বামনেত্রী দেবলীনা হেমব্রম এর বলেন – ধামসা মাদল দিয়ে আদিবাসী উন্নয়ন হয়না। কাজ চাই , শিক্ষা চাই। নরেন্দ্র মোদী সরকার ও মমতা ব্যানার্জী সরকারের পতন চাই।

নিজস্ব চিত্র


আসার কথা ছিল সিপিআই নেতা কানাইয়া কুমারের। বিমান বসু জানান – তার গলার মামস ফুলেছে। তাই আস্তে পারছেনা। এসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সত্যি তিনি অনেক অসুস্থ। স্টেজের পিছনে গাড়িতে বসে ছিলেন তিনি।
সবশেষে মোহাম্মদ সেলিম বলেন – মমতা ব্যানার্জী কে সকলে দিদি বলতেন , হঠাৎ এখন তিনি কি করে পিসি হয়ে গেলেন সেটাই আশ্চর্যের। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বলেন – যে সরকার ৫ বছরে কিছু দেয়নি সেই সরকার আগামীতে কি দেবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অতএব আর সুযোগ দেওয়া ঠিক নয়।
যাই হোক বামেদের ব্রিগেড কর্মসূচি যে সফল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

নিজস্ব চিত্র

Leave a Reply